কৃষি সরঞ্জাম চুরি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিন

বাগেরহাটের ফকিরহাটের বিভিন্ন বিল ও ক্ষেত থেকে কৃষকের সেচের মোটর, মোটরের তার চুরি হয়েছে। এতেকরে একাধিক কৃষক ও ঘেরমালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ না করায় সমস্যার পূর্ণ চিত্র প্রকাশ পায় না। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক স্থানে সেচ মোটর, তার, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যমে প্রায়ই এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ কারণে কৃষকরা নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সেচের মোটর চুরির কারণে সেচব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ফসলের জমিতে সময়মতো পানি সরবরাহ সম্ভব হয় না। ফলে রবি মৌসুমের সবজি, ধান বা অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ব্যহত হয়। ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

নতুন করে মোটর বা তার কেনার জন্য কৃষককে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়, যা প্রকারান্তরে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ায়। সার, বীজ, জ্বালানির মতো খরচের বোঝা তো আছেই। এ কারণে অনেক কৃষকের আয় কমে এবং ঋণের চাপ বাড়ে।

কৃষকের ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে সক্রিয় করতে হবে। নিয়মিত টহল, রাত্রিকালীন নজরদারি এবং চুরির স্পটগুলোতে পাহারা বাড়ানো দরকার। চুরি হওয়া যন্ত্রাংশের বাজার নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযান জোরদার করতে হবে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও কৃষি অফিসের সহযোগিতায় কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ গঠন করা যেতে পারে। এই কমিউনিটি চুরি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষক ও ঘেরমালিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে তারা দ্রুত থানায় অভিযোগ করে। থানায় অভিযোগ করা না হলে অপরাধীরা অন্যায় উৎসাহ পায়। প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলে চুরি ঠেকানো সম্ভব হতে পারে, কৃষি উৎপাদনের ক্ষতি কমবে, গ্রামীণ এলাকার নিরাপত্তাও বাড়বে।

সম্প্রতি