গাইবান্ধায় স্যানিটেশন সংকট: বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিন

গাইবান্ধা জেলায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবার এখনো স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সুবিধার বাইরে রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। এতেকরে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাইবান্ধার মোট পরিবারের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের নিজস্ব কোনো শৌচাগার নেই। আবার যাদের আছে, তাদের মধ্যেও অনেকের স্যানিটেশন ব্যবস্থা অনিরাপদ বা অন্য পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য। এতে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। উপজেলাভেদে স্যানিটেশন সুবিধার বৈষম্যও চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে চরাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক।

চরাঞ্চলের মানুষের জন্য স্যানিটেশন নিশ্চিত করা কঠিন। মূলত দারিদ্র্য, বারবার বন্যা এবং নদীভাঙনের কারণে সমস্যার টেকসই সমাধান করা দুরূহ। ঘরবাড়ি স্থানান্তর করতে হলেও স্থায়ী শৌচাগার সরানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে খোলা জায়গা ব্যবহার করে। নারীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও সমস্যার।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উন্নয়ন সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রচলিত শৌচাগার কাঠামো চরাঞ্চলের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বন্যা বা ভাঙনে এসব শৌচাগার সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই এমন স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সহজে স্থানান্তরযোগ্য এবং দুর্যোগের পর দ্রুত মেরামত করা যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করছেন, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবহার নিশ্চিত করা না হলে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা সংক্রামক রোগ কমানো সম্ভব নয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন।

চরাঞ্চলের পাশাপাশি জেলার অন্য দরিদ্র পরিবারগুলোর দিকেও নজর দেয়া জরুরি। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও থাকতে হবে। সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে টেকসই, সহজ ও সাশ্রয়ী স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্প্রতি