বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকট

বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘অতি উচ্চ পানি-সংকটাপন্ন’ এলাকায় সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করায় সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেচ নিষেধাজ্ঞার ফলে বোরো ধানের আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খেতমজুররা। এই অঞ্চলে বোরো মৌসুমই ছিল তাদের প্রধান কর্মসংস্থানের সময়। ধান কাটার কাজের বিনিময়ে পাওয়া মজুরি ও ধানই অনেক পরিবারের বছরের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করত। বর্তমানে এই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় অভিবাসনের পথে যাচ্ছেন।

কৃষকদের পানি-সাশ্রয়ী ফসল চাষের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ফসলে শ্রমের চাহিদা কম হওয়ায় খেতমজুরদের কাজের সুযোগ আরও সীমিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সেচ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে না। যারা আর্থিকভাবে সক্ষম, তারা ব্যক্তিগত ব্যবস্থায় গভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ চালু রাখতে পারছেন। এতে প্রান্তিক ও দরিদ্র চাষিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং পানির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকট নতুন নয়। দীর্ঘদিনের অতিনির্ভরশীলতা, অপরিকল্পিত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার এবং বিকল্প উৎস উন্নয়নের অভাব এই সংকটকে গভীর করেছে। তাই সমাধানও হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত। শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসংকট কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়। কৃষি, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা ও মানবিক জীবনের সঙ্গে এটি সরাসরি যুক্ত। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

সম্প্রতি