জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নে একটি গভীর নলকূপ ১৮ বছর ধরে বন্ধ আছে। প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সরকারি প্রকল্পটি অচল পড়ে থাকায় শতাধিক প্রান্তিক কৃষক সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে প্রায় শত বিঘা জমিতে নিয়মিত ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জানা যায়, ২০০৮ সালে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করেছিল। বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন, পাইপ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ কাজ শেষ হলেও নানা অজুহাতে নলকূপটি আজও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন অচল থাকায় অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, রাষ্ট্রের সম্পদ কার্যত নষ্ট হচ্ছে।
সেচের অভাবে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। বিকল্প গভীর নলকূপ থেকে দূরত্বের কারণে সময় ও অর্থ-দুইই বেশি ব্যয় হচ্ছে। বর্গাচাষিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। তারা বেশি খরচ করেও পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। এতে কৃষিকাজ ব্যহত হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং সে অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি সরকারি প্রকল্প চালু করতে প্রশাসনিক উদ্যোগই মুখ্য হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রের অর্থে নির্মিত সেচ প্রকল্পের উদ্দেশ্য কৃষিকে সহায়তা করা। সেই উদ্দেশ্য সফল করতে নিয়মিত তদারকি, স্থানীয় সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। নাহলে এমন অচল প্রকল্প শুধু কৃষকের ক্ষতিই বাড়াবে না, জনস্বার্থে ব্যয়ের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
অর্থ-বাণিজ্য: বিশ্ববাজারে সোনার দামে রেকর্ড
অর্থ-বাণিজ্য: ছয় মাসে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৯ শতাংশ