মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবৈধ সিলিকা ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই জায়গার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও সমস্যার ধরন প্রায় একই। বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কতটা কার্যক সেই প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলে পাহাড়ি ছড়া, বনাঞ্চল ও চা-বাগানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত না হওয়ায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। মাঝেমধ্যে শ্রমিক আটক হলেও নেপথ্যে থাকা মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। এতে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে যে, আইনের প্রয়োগ কি কেবল নিচের স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকছে?
মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের আশপাশের রাষ্ট্রীয় জমি থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যয়বহুল সড়ক ও অবকাঠামো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। কোহেলিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত ও জননিরাপত্তাজনিত সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশবিদরা।
দুই জায়গাতেই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস মিলছে। তবে মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন সীমিত বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অবৈধ বালু উত্তোলন প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মানুষের জীবন, অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাই অভিযানের পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি। বালু তোলার অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।