মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপসয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্সকাভেটর বসিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। সেই মাটি ট্রাক-ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ফসলি জমির টপসয়েল কৃষি উৎপাদনের মূল ভিত্তি। এই স্তরেই থাকে প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার এই মাটি কেটে নিলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা দ্রুত কমে যায়। সেটা পুনরুদ্ধারে বহু বছর সময় লাগে। ফলে তাৎক্ষণিক লাভের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা বড় ঝুঁকির মুখে পড়ে।
শুধু কৃষি নয়, এই অবৈধ মাটি কাটার কারণে জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে। বসতবাড়ির পাশঘেঁষে গভীর গর্ত খোঁড়া ও প্রধান সড়কের পাশে মাটি কাটার কারণে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আইন অনুযায়ী কৃষিজমির মাটি ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার দ-নীয় অপরাধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই এই কার্যক্রম চলেছে। মাঝে মাঝে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হলেও পরিস্থিতির তুলনায় যথেষ্ট নয়। কয়েকজনকে জরিমানা করা হলেও মূল চক্র ও অবৈধ ইটভাটাগুলো অক্ষত থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা দরকার। মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা চাই না, কারও সাময়িক লাভের কারণে দেশের ফসলি জমি ধ্বংস হোক। ফসলি জমি রক্ষা করা যেমন কৃষকের জন্য জরুরি, তেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও জরুরি।