লোকালয়ে হাতি: সমন্বিত পদক্ষেপ নিন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বন্যহাতির তাণ্ডবে কয়েকজন কৃষকের প্রায় তিন একর জমির সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে; যারা ধারদেনা করে ফসল উৎপাদন করেছিলেন, তাদের জন্য এই ক্ষতিকে সামান্য ভাবা যায় না। হাতির আগমনে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

লোকালয়ে বন্যহাতির আসা নতুন কোনো ঘটনা নয়। পাহাড়ি এলাকায় বন উজাড়, বসতি বিস্তার, কৃষিজমি ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস সংকুচিত হয়ে গেছে। স্বাভাবিক চলাচলের পথ বা ‘হাতির করিডর’ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যের সন্ধানে তারা লোকালয়ে আসে।

বাস্তবতা হচ্ছে, লোকালয়ে হাতি ঢুকলে ফসল নষ্ট হয়, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে। কৃষকের ক্ষতির দায় কেবল প্রকৃতির ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ দেয়া জরুরি। এতে অন্তত তাদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা কমবে। ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া যেন কাগজপত্রের জটিলতায় আটকে না থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যহাতি লোকালয়ে আসে মানুষের তৈরি বাস্তবতার কারণেই। তাই সমাধানও আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। লোকালয়ে হাতি আসার সমাধান করতে হবে টেকসইভাবে। পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবন-জীবিকার ভারসাম্য বজায় রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ।

হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেগুলো দখলমুক্ত রাখা জরুরি। লোকালয়সংলগ্ন এলাকায় বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে সোলার ফেন্সিং, মৌচাকভিত্তিক বায়ো-ফেন্স, সতর্কতামূলক লাইট ও অ্যালার্ম ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানাতে হবে কীভাবে হাতিকে উত্যক্ত না করে নিরাপদে দূরে রাখা যায়। শুধু মশাল জ্বালানো বা চিৎকার করা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। এ কাজে বন বিভাগ, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সম্প্রতি