টেংরাটিলা রায়: ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেল

সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে ২০০৫ সালে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত ইকসিড বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশগত ক্ষতির জন্য মোট ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর এ রায় নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

রায়ে টেংরাটিলার বিস্ফোরণের জন্য নাইকোর অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অবস্থানকে নৈতিক ও আইনি বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। রায়ে যে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে তা অর্ধেকেরও কম।

বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ গ্যাস, পরিবেশগত ক্ষতি, বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির আর্থিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় এই অঙ্ক অনেক কম বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন। মামলার পেছনে যে দীর্ঘ সময়, অর্থ ও প্রশাসনিক শ্রম ব্যয় হয়েছে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

টেংরাটিলা মামলায় শুরু থেকেই ক্ষতির হিসাব, দাবির যৌক্তিকতা এবং মামলা পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রভাব চূড়ান্ত রায়ে পড়েছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর আইনগত সুযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অবশিষ্ট গ্যাস মজুতের উন্নয়ন ও ব্যবহারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়াও সময়ের দাবি। দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার পুনরাবৃত্তি হলে ক্ষতি আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে জ্বালানি খাতে চুক্তি করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দায়বদ্ধতা ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত শর্ত আরও কঠোর ও স্পষ্ট করা জরুরি।

সম্প্রতি