অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’

প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই খসড়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’ বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

দেশে একটি স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি নতুন নয়। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে প্রেস কাউন্সিল, সম্প্রচারমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমকে সমন্বয় করে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন ‘বাংলাদেশ গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিবেদন জমা দেয়ার প্রায় ১০ মাস পরও সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মাত্র তিন দিনের মধ্যে মতামত চাওয়া কতটা যৌক্তিক সেই প্রশ্ন উঠেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত এভাবে তাড়াহুড়ো করে নেয়া হলে তার গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল হয়।

খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত কমিশনগুলোর গঠন, ক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো সরকারের, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে থাকার আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচারের যে লক্ষ্য, তা কতটা বাস্তবায়িত হবে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি স্বাধীন না হয়, তবে সেটি নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে।

গণমাধ্যম সংস্কার কোনো তাৎক্ষণিক বা প্রশাসনিক কাজ নয়। অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে এগোনো দরকার। সামনে জাতীয় নির্বাচন। কাজেই আগামী সরকার গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া জরুরি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পেশাগত মানোন্নয়নের লক্ষ্য যৌক্তিক পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

সম্প্রতি