বাড়ছে সহিংসতা, প্রশ্নবিদ্ধ আইনের শাসন

দেশে ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। বিশেষ করে মব সন্ত্রাসে নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য।

গণপিটুনির মতো ঘটনা মূলত আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। যখন মানুষ মনে করে, ন্যায়বিচার সময়মতো পাওয়া যাবে না, তখন তারা নিজের হাতে আইন তুলে নিতে উদ্বুদ্ধ হয়। কিন্তু এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণপিটুনির ঘটনা বাড়তে থাকায় রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের ব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রকাশ পায়।

অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বাড়াও গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। একে শুধু সাধারণ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা চলে না। এর মাধ্যমে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও সংগঠিত সহিংসতার আশঙ্কাই তৈরি হয়। কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এখনো। হেফাজতে নির্যাতন এখনো কাঠামোগত সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে। তাহলে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশে পরিবর্তনটা কী হল?

জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত ও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন হওয়া উচিত নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া। প্রাণঘাতী সহিংসতা কারও কাম্য হতে পারে না। অন্তর্বর্তী সরকার ইতিহাসের সেরা নির্বাচন করার যে ঘোষণা দিয়েছে তার সঙ্গে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘরে হামলা বা অগ্নিসংযোগ সামগ্রিক সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিভিন্ন মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা। মামলায় বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি যুক্ত হওয়া আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে বিচারব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সার্বিকভাবে জানুয়ারি মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও জটিল ও সহিংস হয়েছে বলে এমএসএফ-এর প্রতিবেদন থেকে ধারণা মেলে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সে দায়িত্বে ঘাটতি থাকলে মানবাধিকার পরিস্থিতির এই অবনতি থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি