সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওর এলাকার আগাম বোরো ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কাজে ৩৭টি পিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে অনেকদূর এগিয়েছে। কোথাও মাটি কাটার কাজ প্রায় শেষ, কোথাও কাজের গতি ধীর হলেও কার্যক্রম চলমান। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থ না পাওয়া। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ের অর্থ দিয়ে অধিকাংশ কাজ আদায় করে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ের অর্থ না আসায় পিআইসিগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। কাজ চালু রাখতে অনেক পিআইসি সদস্য ধারদেনা ও সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা আশায় আছেন, বিল পেলে এসব ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ের বিলের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত না আসায় অনেক প্রকল্পে কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর। হাওরের বেড়িবাঁধ সময়মতো সম্পন্ন না হলে অকাল বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। অতীতে দেখা গেছে, সামান্য বিলম্বের কারণে পুরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই কাজ থেমে যাওয়া মানে শুধু একটি প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়, বরং কৃষকের এক বছরের শ্রম ও জীবিকার অনিশ্চয়তা।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাড়ে ৭ শতাংশ বিল দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে চলমান কাজ ধরে রাখা বা ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ফলে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দ্রুত দ্বিতীয় বিল দেয়ার আশ্বাস এসেছে, তবে মাঠপর্যায়ে এখনো তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আমরা বলতে চাই, প্রশাসনিক বিলম্ব বা আর্থিক জটিলতার কারণে এই উদ্যোগ ঝুঁকিতে পড়া কাম্য নয়।