শান্তিপূর্ণ ভোট, স্বচ্ছ গণনা ও ফলে জনমতের প্রতিফলন হোক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা ‘সংস্কার প্রস্তাব’ নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসন ছাড়া দেশের ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১,৭৫৫ জন প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে ২,০২৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ফলে দলটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় দায়িত্ব। ভোটগ্রহণ যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, সেটাই এখন প্রধান প্রত্যাশা। ভোটাররা যেন নির্বিঘেœ কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব নাগরিক যেন ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার কোনো বিকল্প নেই।

টানা ১৯ দিনের প্রচারে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও তা বড় শঙ্কার কারণ হয়নি। ভোটের দিন রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট । তবে কোথাও কোনো অনিয়ম বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। গত তিনটি সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাই এবার অনিয়মমুক্ত ভোট আয়োজন করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনকে তার আইনি ক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোরও কমিশনকে সহায়তা করা প্রয়োজন। ভোটের দিন যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা জরুরি, তেমনি ভোট-পরবর্তী সময়েও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

এবার ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন। একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য। পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের গণনাও রয়েছে। ফলে ভোট গণনায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে - এ কথা নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে। তবে অহেতুক বিলম্ব যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোট গণনা সম্পন্ন করে দ্রুত ফল প্রকাশ করা জরুরি। কমিশন আশা করছে, ভোটের পরদিন সকালেই ফল প্রকাশ সম্ভব হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। গণভোটে মানুষ যে মত দেবেন, তার যথাযথ প্রতিফলন ফলাফলে থাকতে হবে।

সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ ও স্বচ্ছ গণনার ভিত্তিতে যে ফল আসবে, তা জনমতের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই ফলকে সব রাজনৈতিক দলের সম্মান জানানো উচিত। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

আমরা বলতে চাই, গণতন্ত্রে উত্তরণের এই আয়োজন সফল হোক। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে এবং গণতান্ত্রিক ধারার ভিত্তি শক্ত হোক সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সম্প্রতি