ভোট শেষ, এখন দায়িত্বশীলতার সময়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ হয়েছে। সারাদিন কিছু অভিযোগ ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলা যায়। অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সাড়ে ছয় ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কোথাও কোথাও সংঘর্ষ, ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা বা প্রার্থীর বর্জনের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। তবে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেনি।

এবারের নির্বাচন কয়েকটি কারণে বিশেষ। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোট চালু হয়েছে, যেখানে প্রবাসী ভোটাররাও অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে অন্যান্য দলগুলোর অংশগ্রহণ এই নির্বাচনকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। ফলে এ নির্বাচনের ফল দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমরা আশা করবো, স্বচ্ছ ভোট গণনার ভিত্তিতে যে ফল আসবে, সেখানে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে। জনমতকে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দলকে সম্মান জানাতে হবে। নির্বাচন ও ফল প্রকাশের সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হলে তার ফল মেনে নেয়ার মানসিকতা সংশ্লিষ্টদের থাকতে হবে। জয়-পরাজয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।

ভোটের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা জরুরি। ফল ঘোষণার পর কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। গণতন্ত্র শুধু ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ নয়। ভোট পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্রের চর্চা বজায় রাখা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় কথা, যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদেরকে গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা মেনে চলতে হবে, জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অবস্থান- সব ক্ষেত্রেই নতুন সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জননির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দ্রুত শাসনভার অর্পণ করা হবে বলে আমরা আশা করতে চাই। জনপ্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে জনকল্যাণে আইন প্রণয়ন করবেন, এটাই প্রত্যাশা। গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

ভোট শেষ হয়েছে। এখন প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, সংযম এবং জনমতের প্রতি সম্মান। গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই।

সম্প্রতি