ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের মিত্ররা ২১২টি আসন পেয়েছে। একক দল হিসেবে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিএনপি। আমরা সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলকে জানাই অভিনন্দন।
নির্বাচনে বিজয়ী দল শীঘ্রীই সরকার গঠন করবে। নতুন সরকারের সামনে প্রথম কাজ হওয়া উচিত শাসন ব্যবস্থায় স্থিতি ফিরিয়ে আনা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি হয়েছে। মব ভায়োলেন্স আইনের শাসনকে ভূলণ্ঠিত করেছে। মবতন্ত্রকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া গণতন্ত্রকে সুসংহত করা যাবে না।
শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা থাকতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে হবে। মানুষ যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে মত প্রকাশ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
অর্থনীতি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি হ্রাস, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা ও বিনিয়োগ ঘাটতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব সমস্যার রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। সমস্যাগুলো কারও অজানা নয়। আগামী সরকারের নিশ্চয় এ নিয়ে ভাবনা আছে বা থাকবে। আমরা এখন শুধু আশা করতে চাই, তারা আন্তরিকতার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। বেসরকারি বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো, আর্থিক খাতের সংস্কার টেকসই করা, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে তারা বাস্তব পদেক্ষেপ নেবে। দুর্নীতি দেশের বড় একটি সমস্যা। যে কোনো মূল্যে দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর পাশাপাশি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সব মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে। আমরা বৈষম্যমুক্ত একটি সমাজ দেখতে চাই।
নির্বাচনে ভোট দিয়ে জনগণ রাজনৈতিক দলের প্রতি আস্থা পোষণ করে। জনগণের আস্থার প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি সরকার গঠন করবে, দলটি জনগণের কাছে দেয়া তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবেÑ এটা আমাদের প্রত্যাশা।
সারাদেশ: গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই বিএনপির জয়