সুন্দরবনে পোনা নিধন বন্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি

পূর্ব সুন্দরবনে অবৈধভাবে পারশে মাছের পোনা আহরণ ও পাচারের অভিযোগে বনরক্ষীদের অভিযানে দুটি ট্রলারসহ ২৫ জন জেলে আটক হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০০ কেজি পোনা জব্দ করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের সময় বলেশ্বর নদী ও কোকিলমোনি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। বন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি নতুন নয়; সুন্দরবনের নদ-নদীতে দীর্ঘদিন ধরে মাছের পোনা আহরণের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পারশে মাছের পোনা সংগ্রহ করে তা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে তাৎক্ষণিক কিছু অর্থ আয় সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হয় মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যর। পোনা নিধন মানে ভবিষ্যৎ মাছের ভা-ার কমিয়ে দেয়া। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সুন্দরবন শুধু একটি বনাঞ্চল নয়; এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ব্যবস্থা। এখানে সামান্য হস্তক্ষেপও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বন বিভাগ আইন প্রয়োগের চেষ্টা করছে। তবে প্রশ্ন হলো, কেন বারবার একই ধরনের অপরাধ ঘটছে? কেবল আটক ও মামলা যথেষ্ট নয়। টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।

স্থানীয় জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দারিদ্র্য ও জীবিকার চাপ অনেক সময় মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি কাজে ঠেলে দেয়। নদী ও বনাঞ্চলে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যুক্ত করা গেলে কার্যকারিতা বাড়তে পারে। সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি, যাতে স্থানীয় মানুষ বুঝতে পারে পোনা নিধনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি।

সম্প্রতি