বুড়ি তিস্তার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিন

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান এলাকায় বুড়ি তিস্তা নদীর ভাঙন বহু বছর ধরেই জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। গত বর্ষায় প্রায় এক হাজার পরিবার বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং বসিয়ে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো হলেও স্থায়ী সমাধানের কাজ এখনো দৃশ্যমান নয়। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ৩.৩০ কিলোমিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের পরিকল্পনা করে সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত একটি পয়েন্টে প্রায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় সীমিত। একটি অংশে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কারিগরি কমিটি গঠন করা হলেও নির্ধারিত সময়ে পরিদর্শন হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নদীর গতিপথ ও প্রবাহের পরিবর্তনজনিত ভাঙন একটি পুনরাবৃত্ত বাস্তবতা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফাঁক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় ও সময়মতো সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দুরূহ হয়ে পড়ে।

আমরা বলতে চাই, বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে কাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করা দরকার। জনসমক্ষে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিলে জবাবদিহি বাড়বে। শুধু পাইলিং নয়, নদী খনন, স্থায়ী বাঁধ, গাইড ওয়াল ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নদীর গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী টেকসই নকশা জরুরি। ভাঙনকবলিত এলাকার মধ্যে কোনগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে কাজ এগোনো যেতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজন। কৃষি ও সেচ অবকাঠামো পুনর্গঠন না হলে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র বাড়বে।

সম্প্রতি