পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচর এলাকায় বনরক্ষীদের টহল ফাঁড়িসংলগ্ন জেলেপল্লি থেকে ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, উপকূলীয় এই অঞ্চলে জেলেদের নিরাপত্তা এখনো ঝুঁকির মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি বনদস্যু বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হানা দিয়ে জেলেদের তুলে নিয়ে গেছে। এর আগেও একই এলাকায় ট্রলার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ফলে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
সুন্দরবন, বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন নদীপথে জেলে অপহরণের ঘটনা নতুন নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেলেদের অপহরণের মূল উদ্দেশ্য মুক্তিপণ আদায়। নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা অপহরণকারীদে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদী ও খাল-নালায় নজরদারি করা কঠিন। অনেক জায়গায় দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয় না। টহল থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বা নিয়মিত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দস্যুরা ফাঁকফোকর বুঝে হামলা চালায়। দস্যুদের অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে আগাম তথ্যের অভাব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমকে দুর্বল করে।
উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছু মানুষকে অপরাধচক্রে যুক্ত হতে প্ররোচিত করে। অপহরণ বন্ধে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার যৌথ অভিযান জোরদার করতে হবে। নিয়মিত ও পরিকল্পিত টহল বাড়ানো প্রয়োজন। নদীপথে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ব্যবস্থা থাকতে হবে। জিপিএস ট্র্যকিং, ভিএইচএফ যোগাযোগব্যবস্থা ও দ্রুত সংকেত পাঠানোর সুবিধা জেলেদের জন্য চালু করা যেতে পারে। নিবন্ধিত জেলে ও ট্রলারের তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা দরকার। কারা কোথায় মাছ ধরছে, তার একটি হালনাগাদ ডাটাবেস থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
শুধু দস্যু ধরলেই হবে না, তাদের অর্থের উৎস ও মদতদাতাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলে অপরাধে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
নগর-মহানগর: সোনারগাঁয়ে রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা
সারাদেশ: বিজিবির অভিযানে অবৈধ সিরাপসহ আটক ১