ইটভাটায় কৃষিজমির মাটি

ইট উৎপাদনের মৌসুম শুরু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসে। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ে, পরিবহন খাতে ব্যস্ততা তৈরি হয়, শিল্প কার্যক্রম সক্রিয় হয়। তবে এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি অংশ যদি কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাধারের ক্ষতির বিনিময়ে পরিচালিত হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও পরিবেশ-দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ইটভাটার জন্য ব্যাপকভাবে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ সেই উদ্বেগই সামনে এনেছে।

সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ত্রিশালে চালু থাকা বিভিন্ন ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে মাটির প্রয়োজন হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই চাহিদা পূরণে একটি প্রভাবশালী চক্র কৃষকদের কাছ থেকে জমির উর্বর উপরিভাগ কেটে নিচ্ছে। অনেক কৃষক তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভের আশায় জমির মাটি বিক্রি করছে। তবে এর ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। কৃষিজমির উপরিভাগই ফসল উৎপাদনের মূল ভিত্তি। সেটি অপসারণ করা হলে জমির দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সাময়িক লাভের বিনিময়ে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইটভাটা শিল্প প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করে। তবে তার কাঁচামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া যদি কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে সেটি টেকসই উন্নয়নের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রশাসন বলছে, আবাদি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করার কোনো বৈধতা নেই। এটি আইনত দণ্ডনীয়। বাস্তবতা হলো, এই অন্যায় কাজ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। নিয়মিত পরিদর্শন, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ এবং অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সম্প্রতি