ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির শপথবাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নিয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল শেষে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নতুন সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাই।
নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া মানে কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ নয়, বরং দেশবাসীর প্রতিনিধিত্ব করা। ভিন্নমত ও বিরোধী পক্ষের প্রতি সহনশীলতা থাকা গণতান্ত্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্য। জনগণের প্রত্যাশা, সরকার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পেছনে রেখে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।
নির্বাচনী অঙ্গীকারে বিএনপি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই হবে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার মূল ভিত্তি। এজন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থাকে কার্যকর ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন বড় চাপের মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র?্য বেড়েছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি মন্থর। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং উৎপাদন খাতে অনিশ্চয়তা অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। নিত্যপণ্যেও বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে হবে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে কর্মসংস্থান। অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সরকারকে দ্রুত একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি ব্যবহার না করা এবং সরকারিভাবে প্লট বরাদ্দ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অতীতে এসব সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আনার সুযোগটি অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারে। জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ সুবিধা কমিয়ে আনা হলে জনআস্থা বাড়বে, রাজনীতিতে জবাবদিহির সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে।
নতুন সরকারকে সামনে রেখে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং সুশাসন-এই তিন ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায় জনগণ। আমরা আশা করব, দেশ ও জাতির কল্যাণে নতুন সরকার আত্মনিয়োগ করবে।