তামাক চাষে ঝুঁকছে কৃষক

মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে ধান, সরিষা, ভুট্টা বা ডাল চাষের বদলে তামাক আবাদ বাড়ছে। কৃষকদের একটি অংশ বলছেন, তামাক চাষে তুলনামূলক লাভ বেশি। কোম্পানিগুলো আগাম বীজ ও সার সরবরাহ করে। তামাক কেনার নিশ্চয়তা থাকায় বাজারঝুঁকি কম। ফলে অল্প সময়ে নিশ্চিত নগদ লাভ পাওয়া যায়। এই বাস্তবতা অনেক কৃষককে তামাক চাষে প্রভাবিত করছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তামাক চাষের অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির দিকগুলো উপেক্ষিত থাকছে। কৃষিবিদদের মতে, তামাক গাছ মাটি থেকে প্রচুর পুষ্টি উপাদান শোষণ করে, ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা কমে যায়। একাধিক মৌসুম ধরে একই জমিতে তামাক চাষ করলে জমি অন্য ফসলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। কৃষকদের মধ্যেই কেউ কেউ স্বীকার করছেন, বারবার তামাক চাষের কারণে বিকল্প ফসল ফলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির গুণগত মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও বাড়ে।

স্বাস্থ্যঝুঁকিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তামাক পাতা শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত করার সময় যে গন্ধ ও ধোঁয়া ছড়ায়, তা শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মাঠপর্যায়ে নারী ও শিশুরাও তামাক প্রক্রিয়াজাতে যুক্ত থাকায় তাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করার ঘোষণা যথেষ্ট নয়। লাভজনক বিকল্প ফসলের জন্য সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উচ্চমূল্যের সবজি, ডাল বা তেলবীজ চাষে প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। সহজ শর্তে ঋণ এবং সময়মতো সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জমির উর্বরতা রক্ষায় ফসলচক্র অনুসরণ ও মাটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার মতো উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তামাক চাষে যুক্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। তামাক কোম্পানির প্রণোদনা কার্যক্রমের ওপর নীতিগত নজরদারি জোরদার করতে হবে।

কৃষকের আয় ও জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা ও জনস্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করা চলে না। পরিকল্পিত নীতি, কার্যকর তদারকি এবং বাস্তবসম্মত বিকল্পের মাধ্যমেই তামাক চাষের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্প্রতি