জেলে অপহরণ : সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে

সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক জেলে অপহরণের ঘটনা উপকূলীয় মৎস্য খাতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। চার দিনের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ২৮ জন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। এখনও ২০ জন জেলে ট্রলারসহ দস্যুদের কাছে আটক রয়েছেন। অপহরণের ঘটনাগুলো ঘটেছে দুবলার চরসংলগ্ন সাগর এলাকায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলেদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, দস্যুবাহিনী সংগঠিতভাবে ট্রলার ঘিরে জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা মুক্তিপণ দাবি করছে। শুধু ব্যক্তিপ্রতি মুক্তিপণ নয়, শুঁটকি পল্লীর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এটি কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং একটি কাঠামোবদ্ধ চাঁদাবাজি ও অপহরণচক্রের ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয় বন বিভাগ টহল জোরদার এবং কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে বোঝা যায়, বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না। সুন্দরবন ও উপকূলীয় সাগরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই মৌসুমি মাছ ধরার সময় দস্যুদের তৎপরতা বাড়ে।

শুঁটকি মৌসুমে দুবলার চরে কয়েক হাজার জেলে অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। মৎস্য খাত উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হতে পারেন।

জরুরি ভিত্তিতে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। দস্যু চক্রকে স্থায়ীভাবে দমন করতে হবে। এজন্য আগাম গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত যৌথ টহল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি