খাতা-কলমে স্কুল, শ্রেণীকক্ষে নেই শিক্ষার্থী

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার টেংগারচর ইউনিয়নের ৮২ নম্বর দড়িকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫২ জন। বাস্তবে শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত মাত্র একজন শিক্ষার্থী! সংবাদ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

অবকাঠামোর ঘাটতি, শিক্ষকদের অনিয়ম, পাঠদানে অনীহা এবং উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তদারকির অভাবের কারণে শিক্ষার্থীরা ওই স্কুলে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছে। বিদ্যালয়ে তিনটি কক্ষ থাকলেও পাঠদানের পরিবেশ স্বাভাবিক নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে সহকারী শিক্ষকদের কক্ষে বসে একা অঙ্ক করতে দেখা গেছে, যা একটি কার্যকর শ্রেণীকক্ষের চিত্র নয়। এই বাস্তবতা শুধু একটি বিদ্যালয়ের নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার তদারকি ও পরিচালনার দুর্বলতার প্রশ্নও দেখা দেয়।

শিক্ষার্থী সংখ্যার ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। একজন শিক্ষক দাবি করেছেন ৫২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আবার ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন সংখ্যাটা ৩৬। এমন পার্থক্য প্রশাসনিক তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারির দুর্বলতা প্রকাশ করে।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে। আর ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয়করণের পরও পাঠদান ও ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো সকল শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। সেখানে একজন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম চালালে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে কিনা সেটা একটা প্রশ্ন।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, পাঠদানের মান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা দরকার। প্রাথমিক শিক্ষা দেশের ভিত্তি। সেই ভিত্তি দুর্বল হলে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব পুরো সমাজে পড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

সম্প্রতি