অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করুন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনালী চেলা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালু মহাল ইজারার আড়ালে নিয়ম না মেনে নদীর তীর কেটে বালু তোলা হচ্ছে। এর ফলে শুকনো মৌসুমেও বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো নদীতে বিলীন হচ্ছে।

চেলা নদী ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। একসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এই নদী এখন তীরবর্তী মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে পর্যাপ্ত বালু না থাকলেও ইজারা দেওয়া হচ্ছে। ইজারার টাকা তুলতে গিয়ে নদীর মাঝখান থেকে নয়, বরং পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তীর কেটে বালু তুললে তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, স্রোতের দিক পরিবর্তিত হয়। এতে করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র ইজারার সুযোগ নিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। আমরা আশা করি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত হবে। নিয়ম অনুযায়ী বালু উত্তোলন হচ্ছে কিনা, পরিবেশগত মূল্যায়ন করা হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। তদন্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

নদী কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকারও অংশ। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে যদি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তীরবর্তী জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেই নীতি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

সম্প্রতি