খুলনার ডুমুরিয়া অঞ্চলের শৈলমারি ও বুড়িভদ্রা নদী দুটি নাব্য হারিয়ে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। একসময় নদী দুটি স্থানীয় কৃষি, মৎস্য আহরণ, যোগাযোগ ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল। আজ নদীতে পানির অভাবে খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নদী পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নাব্য সংকটের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীদখল, পলি জমা, দূষণ। ইটভাটাসহ অন্যান্য স্থাপনার কারণে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে নদীর প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে, পানি প্রবাহ কমছে। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা না গেলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা আরও তীব্র হবে। অতীতে নদী খননের কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দখলদারিত্ব ও অপরিকল্পিত বাস্তবায়নের কারণে স্থায়ী সমাধান হয়নি।
শৈলমারি ও বুড়িভদ্রাসহ দেশের অন্যান্য ছোট-বড় নদী পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। নদী খননের পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীতে অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা জরুরি। নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।
নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ ব্যবস্থা ও জীবিকার ভিত্তি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ব্যহত হবে। পরিবেশের ভারসাম্য আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।