মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বর্তমানে অন্তত ৫৮টি ইটভাটা চালু রয়েছে। এসব ভাটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে আছে। সংবাদ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভাটায় ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি বা টপসয়েল। এতে ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উর্বর মাটির স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে। আশপাশের জমিরও ক্ষতি হচ্ছে। অনেক জমি ডোবা-নালায় পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে যে, কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতের বেলায় মাটি কাটা ও পরিবহন করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে কৃষিজমির মালিকদের মাটি বিক্রির জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কম দামে জমি কেনার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, একই লাইসেন্সের আওতায় একাধিক ভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উক্ত এলাকার কোনো ভাটাই সম্পূর্ণ বিধিসম্মত নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়, জরিমানা করা হয়। তবে সমস্যার টেকসই সমাধান হয়নি।
ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে। ইট তৈরিতে ফসলি জমি থেকে টপসয়েল কেটে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে সিংগাইরের মতো এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। প্রয়োজনে অবৈধ ভাটা বন্ধ করতে হবে। মাটি ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইট উৎপাদনে বিকল্প উপায় বা উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে যাতে কৃষিজমির ক্ষতি কম হয়। কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান অপরিহার্য। স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভূমি বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।