নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে নির্বিচারে পাথর তোলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নদীর তলদেশ খুঁড়ে পাথর তোলার ফলে ভাঙন বাড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা। একাধিক ইউনিয়নে নদীভাঙনের বিস্তার স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অন্তত ১৫টি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাথর তুলছে। পাথর তোলা, পরিবহন, সঞ্চয় ও বাজারজাতকরণের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের না জানবার কথা নয়। তবু বাস্তবে কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, যারা অনিয়মের প্রতিবাদ করছেন, তারাই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর তোলার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ও বটে। নদীর তলদেশ অস্থিতিশীল হলে ভাঙন বাড়ে, অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ে। অবৈধ পাথর উত্তোলন কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এটি পরিবেশ সুরক্ষা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের প্রশ্ন।
এই পরিস্থিতিতে সাময়িক অভিযান যথেষ্ট নয়। অবৈধ পাথর উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনগণকে অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে তারা নির্ভয়ে তথ্য দিতে পারেন।