ময়মনসিংহে অটোরিকশা থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে। চালকদের অভিযোগ, আগে যেখানে ২০ বা ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো, এখন বিভিন্ন স্থানে তা ৫০, ৭০ কিংবা ১০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। কোথাও স্লিপের মাধ্যমে, কোথাও টোকেনের নামে, আবার কোথাও কোনো রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়ের কথা বলা হচ্ছে।
একদিকে পুলিশ বলছে সড়কে চাঁদা তুলতে দেওয়া হবে না, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, টেন্ডারের মাধ্যমে স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত হারে টোকেন ফি নেওয়ার অনুমতি আছে। এই দুই বক্তব্যের মাঝখানে থেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন চালকেরা। বৈধ ফি ও অবৈধ চাঁদার পার্থক্য স্পষ্ট না হলে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবেই।
চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। এখন আবার বাড়তি হারে আদায়ের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করেছে। যদি সত্যিই ইজারার আওতায় নির্ধারিত ফি নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার পরিমাণ, প্রক্রিয়া ও হিসাব প্রকাশ্যে জানানো প্রয়োজন। আর যদি অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়ে থাকে, তবে তা বন্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু শ্রমিকদের নয়, সাধারণ যাত্রীদেরও প্রভাবিত করে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার চাপ শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরই পড়ে। পাশাপাশি সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি জনভোগান্তি বাড়ায়। সমস্যার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কোথায় বৈধ ফি নেওয়া হচ্ছে, কোথায় অবৈধ চাঁদা আদায় হচ্ছে তা দ্রুত নির্ধারণ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অভিযোগ গ্রহণ, যাচাই ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।