সৌদি আরব থেকে দুই নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন। সেখানে তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা রিজিয়া বেগম নিজের পরিবারের কাছে ফিরেছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এটা একদিকে স্বস্তির বিষয়। এই ঘটনায় নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে নারী অভিবাসনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) জানায়, ২০২২ সালে এক লাখের বেশি নারী বিদেশে গেলেও পরবর্তী বছরগুলোতে এ সংখ্যা কমেছে। নির্যাতন, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, চুক্তিপত্রের অনিশ্চয়তা এবং আইনি সহায়তার ঘাটতি এ প্রবণতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে যাওয়া নারী কর্মীদের বড় অংশ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
বিদেশে নারী কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শতাধিক নারী শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরেছে। আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর বড় অংশ ঘটেছে সৌদি আরবে। তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারগুলোর সংশয় রয়েছে।
অধিকাংশ নারী অদক্ষ গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে যান। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, ভাষাজ্ঞান ও অধিকার সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েন। রিক্রুটিং এজেন্সির তদারকি দুর্বল হলে প্রতারণা ও পাচারের সুযোগ বাড়ে। অন্যদিকে, দেশে ফিরে আসা ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাও যথেষ্ট নয়।
নারী অভিবাসন বন্ধ করা সমাধান নয়। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর আগে বাধ্যতামূলক দক্ষতা ও অধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। স্বচ্ছ চুক্তিপত্র ও ডিজিটাল নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সক্রিয় তদারকি ও অভিযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করতে হবে। প্রবাসে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটা করা না হলে অভিবাসননির্ভর উন্নয়ন কৌশল টেকসই হবে না।
অর্থ-বাণিজ্য: আহসান এইচ মনসুরের বিদায়, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান
সারাদেশ: কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু