চাঁদপুর ও চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক দুটি গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দেশে গ্যাস ব্যবহার-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। চাঁদপুরে সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামে পাইপলাইনের গ্যাস জমে বিস্ফোরণে এক পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনায় আরও কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। দুটি ঘটনার প্রাথমিক কারণ ভিন্ন হলেও মূল সমস্যা একই-গ্যাস লিকেজ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকির অভাব।
গৃহস্থালিতে এলপিজি সিলিন্ডার এবং পাইপলাইনের গ্যাস দুই ব্যবস্থাই এখন বাস্তবতা। প্রশ্ন হচ্ছে এসব ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে কিনা। সংশ্লিষ্টরা মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহার করেন কিনা? ব্যবহারকারীদের সচেতনতাইবা কতটুকু?
অনেক ক্ষেত্রে পুরনো চুলা, ত্রুটিপূর্ণ রেগুলেটর, নিম্নমানের পাইপ বা সংযোগের কারণে লিকেজ হয়। আবার পাইপলাইন ব্যবস্থায় অবকাঠামোগত ত্রুটি, অদক্ষ সংযোগ কিংবা পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব থেকেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকলে সামান্য আগুন থেকেই বড় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এই ঝুঁকি সম্পর্কে অনেকেই যথেষ্ট সচেতন নন।
চট্টগ্রামের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। চাঁদপুরের ঘটনাতেও স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর তদন্তই যথেষ্ট নয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত উদ্যোগে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরাপত্তা নির্দেশনা নিশ্চিত করা উচিত।
গ্যাস নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি। এর ব্যবহার নিরাপদ না হলে তা জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, নিরাপত্তা কেবল ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়। এটি একটি সমন্বিত দায়িত্ব। যথাযথ তদারকি, মাননিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে আমরা বিশ^াস করতে চাই।
আন্তর্জাতিক: তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে চান শাহবাজ শরিফ