গাজিখালী নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিন

ঢাকার ধামরাইয়ের গাজিখালী নদী এখন এক গভীর পরিবেশ সংকটের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে নির্গত কেমিক্যাল মিশ্রিত অপরিশোধিত বর্জ্যপানি নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কৃষিকাজ, গৃহস্থালি ব্যবহার এবং মাছ ধরার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি এই নদীকেই কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এখন সেই নদীর পানি ব্যাবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সেচের কাজেও ব্যবহার করা যায় না। নদীর পানি দূষিত হওয়ায় কৃষিজমির উৎপাদনও কমে গেছে। সেখানে মাছের অস্তিত্ব নেই।

নদীর এই দুরবস্থা শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়। এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতারও একটি নমুনা। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর তদারকি থাকলে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা সম্ভব হতো না। শিল্প কারখানাগুলোর জন্য বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গাজিখালী নদী পুরোপুরি মৃত নদীতে পরিণত হতে পারে। একটি নদীর মৃত্যু মানে শুধু পানির উৎস হারানো নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে। জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও তৈরি হবে। নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেছেন। আমরা বলতে চাই, আলোচনায় থেমে থাকলে হবে না। বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

গাজিখালী নদী রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। শিল্পায়ন প্রয়োজন, কিন্তু এজন্য পরিবেশ ধ্বংস করা চলে না। আইন মেনে শিল্প কলকারাখানা চালাতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

সম্প্রতি