নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ। শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য নেওয়া এই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ হবে। এতে করে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার একটি বার্তা দিয়েছে যে, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ক্ষুদ্র ঋণের চাপ অনেক কৃষকের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ঋণের কিস্তি ও সুদের দায় তাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ায়। অনেক সময় তারা অনানুষ্ঠানিক উচ্চসুদের ঋণ নিতে বাধ্য হন। সরকারের এই মওকুফ কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাবে। কিস্তির অর্থ সাশ্রয় হওয়ায় কৃষক উন্নত বীজ, সার, সেচপ্রযুক্তি বা পশুপালনে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তাদের ঋণমান বা ক্রেডিট রেকর্ড উন্নত হলে ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে পুনরায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নেওয়া সহজ হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে বলে আশা করা যায়।
ঋণ মওকুফের মতো পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও বিবেচনায় রাখা জরুরি। নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীরা যেন বৈষম্যের শিকার বোধ না করেন, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকতে হবে। মওকুফের অর্থায়ন কীভাবে হবে এবং ব্যাংকিং খাতে এর প্রভাব কী দাঁড়াবে, সে বিষয়েও স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঋণ মওকুফ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এটা যেন এখানেই থেমে না থাকে। কৃষকের টেকসই উন্নয়নের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, ফসল বিমা চালু করা, সহজ শর্তে পুনঃঅর্থায়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণের মতো কাঠামোগত সংস্কার সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তা না হলে ঋণমুক্তির স্বস্তি সাময়িক হতে পারে।
অর্থ-বাণিজ্য: বাজার মূলধন বাড়লো ৮ হাজার কোটি টাকা
অর্থ-বাণিজ্য: জিডিপির তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না
অর্থ-বাণিজ্য: সোনার দাম ফের বাড়লো
আন্তর্জাতিক: মার্কিন-ইসরায়েলকে হুমকি দিল ইরান
আন্তর্জাতিক: ইরানে গার্লস স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, নিহত বেড়ে ৫১