যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। তেহরানেও হামলা হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যালয় ধ্বংসের খবর এসেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ মোট ৩০ জন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মারা গেছেন বহু বেসামরিক মানুষ। মেয়েদের একটি স্কুলেও প্রাণহানি ঘটেছে।

ইরান এর জবাবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেলআবিবে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে হতাহতের খবর এসেছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা করেছে। দুবাই, দোহা ও বাহরাইনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান আরও হামলা করলে যুক্তরাষ্ট্র বড় শক্তি প্রয়োগ করবে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডও বড় অভিযানের হুমকি দিয়েছে। পাল্টা হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

এই হামলার পেছনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে এ নিয়ে ইরানের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা চলছিল। ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় অগ্রগতির ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছিল। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই সামরিক অভিযান শুরু হলো। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ দুর্বল হলো কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।

ইরানে হামলার ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, কাতার ও রাশিয়া সতর্ক বার্তা দিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান জানিয়েছে। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার কথা বলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানির বাজার অস্থির হবে। বাড়তে পারে শরণার্থী সংকট। বিশেষ নতুন জোট রাজনীতি তৈরি হতে পারে। এতে শক্তিধর দেশগুলোর সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকবে।

যুদ্ধ কখনো স্থায়ী সমাধান আনে না। সামরিক পদক্ষেপ উত্তেজনাই বাড়ায় কেবল। আলোচনার পথই টেকসই সমাধান দিতে পারে। এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি। বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা হওয়া প্রয়োজন। কিন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠনের কাজটা কে করবে বা কীভাবে হবে সেটা একটা প্রশ্ন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম দেখাতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বড় যুদ্ধ ঠেকাতে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সম্প্রতি