জাটকা সংরক্ষণ: জেলেদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত বিস্তৃত নদী এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের পদক্ষেপে ইলিশের উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। জাতীয় সম্পদ হিসেবে ইলিশ সংরক্ষণে অংশীজনদের সহযোগিতা তাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই নীতির আরেকটি দিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে অনেক জেলে পরিবার সরাসরি নদীর ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞার সময় তারা বেকার হয়ে পড়েন।

সরকার নির্দিষ্টসংখ্যক জেলেকে ভিজিএফের চাল দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু জেলেদের অভিযোগ, এই বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। শুধু খাদ্য সহায়তায় সংসারের অন্যান্য ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না। সন্তানদের পড়াশোনা, ঋণের কিস্তি ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা আরও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

নিষেধাজ্ঞার সফল বাস্তবায়নের জন্য দুইটি বিষয় সমান গুরুত্ব পায়। প্রথমত, আইন প্রয়োগে কঠোরতা ও সমন্বয় বজায় রাখতে হবে, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করে সুবিধা না নিতে পারে। দ্বিতীয়ত, জেলেদের সহায়তা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত করতে হবে। প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা দরকার। সময়মতো খাদ্য সহায়তা বিতরণ এবং প্রয়োজনে সীমিত আর্থিক সহায়তা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।

জাটকা সংরক্ষণ কেবল প্রশাসনিক অভিযানের বিষয় নয়। এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়। ইলিশ রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি জেলে পরিবারের জীবিকাও নিশ্চিত করতে হবে।

সম্প্রতি