আলুর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারদর নেমে গেছে উৎপাদন খরচের নিচে। এতে চাষিরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২-২৫ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫-৭ টাকা দরে। কোথাও কোথাও ১৮ টাকায় বিক্রি করেও খরচ উঠছে না। এ
আলুর দাম কমার একটি বড় কারণ হচ্ছে সরবরাহ বেশি থাকা। গত বছরের মজুত এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার ওপর এ বছরও ফলন ভালো। হিমাগারগুলোতে নতুন আলু নেয়ার জায়গা নেই। কোথাও ভাড়া বেড়েছে। ফলে কৃষক মাঠ থেকে আলু তুলে সংরক্ষণ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছেন। এতে বিঘাপ্রতি ১৪-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নওগাঁ জেলায় চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে গত পাঁচ বছরে আবাদ ও উৎপাদন কমেছে। তবু বাজার স্থিতিশীল হয়নি। বোঝা যাচ্ছে, শুধু উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে বাজারের সমাধান হয় না। পরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
বীজের মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। অনেক কৃষক অপরিপক্ব বা নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করছেন। এতে ফলন কমছে, রোগ বাড়ছে, খরচ বাড়ছে। ভালো মানের বীজ, সমন্বিত রোগব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা না বাড়ালে উৎপাদন ব্যয় কমবে না।
আলু দেশের প্রধান খাদ্যশস্যগুলোর একটি। এই খাতে ধারাবাহিক লোকসান কৃষির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। উৎপাদন বাড়ানোই শেষ কথা নয়। উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি।
আলুর সংরক্ষণব্যবস্থার আওতায় বাড়াতে হবে। সহজ শর্তে হিমাগার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার সমন্বয় দরকার। প্রয়োজনে সরকারি ক্রয় বা প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোগ বাড়ানো যেতে পারে। আগাম তথ্য দিয়ে কৃষকদের আবাদ পরিকল্পনায় সহায়তা করতে হবে। এক মৌসুমের লোকসান আরেক মৌসুমে পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়।
আন্তর্জাতিক: খামেনি হত্যা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির সরাসরি লঙ্ঘন
অপরাধ ও দুর্নীতি: মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী