নির্ধারিত সময়ে হাওরের বাঁধ নির্মাণে বাধা কোথায়?

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এবারও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। সরকারি হিসাবে অগ্রগতি ৭৬-৭৮ শতাংশ বলা হচ্ছে। তবে স্থানীয় কৃষক ও সংগঠনগুলোর দাবি, বাস্তবে অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। মাঠপর্যায়ের চিত্র নিয়ে এই বড় পার্থক্য উদ্বেগজনক।

এ বছর ৭১৮টি প্রকল্পে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু অনেক স্থানে কাজ শুরু হয়েছে দেরিতে। কোথাও কোথাও এখনও মাটির কাজ বাকি। অনেক জায়গায় অক্ষত বাঁধে নতুন বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। এতে বরাদ্দ বণ্টন ও প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতার পর ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে কৃষকদের অংশগ্রহণে পিআইসি গঠন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো। কিন্তু নীতিমালা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষক বা সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের বাদ দিয়ে অন্যদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতিত্বের কথাও বলা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বরাদ্দ ছাড়ে বিলম্বের কথা বলা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, প্রকৃতি প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার মানে না। মার্চে আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকে। জেলার ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ মেট্রিক টন। সম্ভাব্য বাজারমূল্য পাঁচ হাজার কোটির বেশি। বাঁধের কাজে গাফিলতি হলে শুধু কৃষক নয়, পুরো জেলার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই পরিস্থিতিতে বাস্তব অগ্রগতির নিরপেক্ষ যাচাই করতে হবে। জেলা ও উপজেলা কমিটির কাজের ওপর কার্যকর নজরদারি দরকার। অভিযোগ থাকলে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত।

সম্প্রতি