সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান আজ চাপের মুখে। একসময় ঘন বন ও বৈচিত্রময় প্রাণীর জন্য পরিচিত এই উদ্যান এখন কাঠ পাচার, অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত চাপে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বড় ও পুরনো গাছের সংখ্যা কমেছে। এতে বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ- এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্র মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করছে। কিছু ক্ষেত্রে বন বিভাগের ভেতরের যোগসাজশের কথাও বলা হচ্ছে। এসব অভিযোগ যাচাই করা জরুরি।
বাস্তবতা হলো, বনাঞ্চলের ঘনত্ব কমছে। এর প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্রের ওপর। ছায়াপ্রধান বন কমে গেলে পাখি, সরীসৃপ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাস সংকুচিত হয়। মাটির আর্দ্রতা ও জলধারার ওপরও প্রভাব পড়ে।
বনভূমি খন্ডিত হওয়ার আরেকটি কারণ সড়ক ও রেলপথ। উদ্যানের ভেতর দিয়ে সড়ক যাওয়ায় দ্রুতগতির যানবাহনে অনেক সময় বন্যপ্রাণী মারা যাচ্ছে। রেলপথের শব্দ ও কম্পনও প্রাণীদের বিচরণে বাধা সৃষ্টি করে। এতে বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে প্রাণী লোকালয়ে চলে আসার ঘটনাও বাড়ছে।
বন থেকে অবৈধ কাঠ ও বাঁশ পাচার রোধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য করিডোর ও আন্ডারপাস নির্মাণ এবং সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে হবে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত না করলে দীর্ঘমেয়াদে টেকসইভাবে বন সংরক্ষণ সম্ভব নয়।
সারাদেশ: তামাক চাষে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে
আন্তর্জাতিক: হরমুজ প্রণালি বন্ধে জ্বালানি হুমকিতে বিশ্ব