সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ নতুন নয়। রংপুরের পীরগঞ্জ ও কুমিল্লার চান্দিনার সাম্প্রতিক ঘটনা বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে। ভিজিডি, ভিডব্লিউবি ও টিসিবির মতো কর্মসূচির আওতায় যেসব চাল বিতরণ হয়েছে, তার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
রংপুরের পীরগঞ্জে সুবিধাভোগীরা জানিয়েছেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিতরণ করা চালের মধ্যে পোকা, ভাঙা দানা ও দুর্গন্ধ ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। অভিযোগ আছে, খাদ্য গুদাম থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করে তা সুবিধাভোগীদের মধ্যে দেয়া হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার চান্দিনায়। সেখানে ভিজিডি কর্মসূচির চালের একাধিক বস্তায় পচা ও পোকায় আক্রান্ত চাল পাওয়া গেছে। অন্তত ১৬টি বস্তা ফেরত এসেছে ইউনিয়ন পরিষদে।
দরিদ্র মানুষের ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নেয়া হয়। যারা এই চালের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এর বিকল্প নাই। নিম্নমানের বা নষ্ট চাল সরবরাহ হলে তাদের ভোগান্তির সীমা থাকে না।
খাদ্য সংগ্রহ, মজুদ ও বিতর ব্যবস্থার কোথায় দুর্বলতা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মিলারদের কাছ থেকে চাল কেনা, গুদামে সংরক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে বিতরণের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা করা দরকার। জোরদার মনিটরিং থাকতে হবে। চাল নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করা ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নিম্নমানের চাল বিতরণ চলতে থাকলে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
আন্তর্জাতিক: আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে ঢাকার স্পষ্ট অবস্থান চায় ইরান
সারাদেশ: রমজানে কলার চাহিদা ও দাম বেড়েছে