ভূগর্ভস্থ পানির সুরক্ষায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি

ভোলার চরফ্যাশনে অবৈধ সেচ পাম্পের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় এক লাখের বেশি মানুষ সুপেয় পানি সংকটে পড়েছেন। বহু নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী মানুষকে নিজ এলাকার বাইরে থেকে পানি আনতে হচ্ছে বা বিকল্প অনিরাপদ উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

চরফ্যাশনে এ সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে, অপরিকল্পিতভাবে সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন। কৃষিকাজের জন্য সেচ প্রয়োজন, এতে সন্দেহ নেই। তবে ভূগর্ভস্থ পানি অনিয়ন্ত্রিতভাবে তোলা হলে তার প্রভাব শুধু কৃষিতে নয়, মানুষের মৌলিক পানির চাহিদার ওপরও পড়ে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তারা মোটরচালিত পাম্প বসানোর সামর্থ্য রাখে না।

জানা গেছে, চরফ্যাশনে অনেক ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি বা পরিবেশগত যাচাই ছাড়াই শক্তিশালী পাম্প বসানো হচ্ছে। ফলে স্থানীয়ভাবে পানির স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার অগভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। এ থেকে সমস্যার গভীরতা অনুমান করা যায়। নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ পুকুর বা দূষিত উৎসের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ পাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়। বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করা হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি উৎপাদন ও মানুষের পানির প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পরিকল্পিত সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেহবে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার একটা নিয়মের মধ্যে আনা প্রয়োজন। তা না হলে আজকের এই সংকট ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে।

সম্প্রতি