দক্ষিণ গুলিশাখালীতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করুন

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ গুলিশাখালী গ্রামের মানুষ নিরাপদ খাবার পানির সংকটে ভুগছেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের পাশের এই গ্রামে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সুপেয় পানির স্থায়ী কোনো উৎস ছাড়াই জীবনযাপন করছে। সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গ্রামটির মাঝামাঝি এলাকায় বসবাসকারী প্রায় দেড় হাজার মানুষের জন্য একটি পানির পুকুরও নেই। ফলে প্রতিদিন আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে।

গ্রামবাসী বাধ্য হয়ে দূরের পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করছে। অনেক সময় ভ্যানে করে ২০ লিটার পানি আনতে ৫০ টাকা খরচ করতে হয়। যারা সেই খরচ বহন করতে পারেন না, তারা ভোলা নদীর পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করেন। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা এবং নদীর পানির মান বিবেচনায় এটি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে। রাষ্ট্রের উদ্যোগে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংকি বিতরণ করা হলেও গ্রামটির খুব অল্পসংখ্যক মানুষ তা পেয়েছেন। ফলে সমস্যার মূল সমাধান হয়নি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পুকুর পুনঃখনন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংকি বিতরণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে পুকুর পুনঃখননের প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। প্রকল্প পুনরায় চালু হলে সংকটপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। দক্ষিণ গুলিশাখালীর পরিস্থিতি বিবেচনায় এই গ্রামটিকে সেই তালিকায় রাখা জরুরি।

নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় একটি পানির পুকুর খনন এবং প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে দক্ষিণ গুলিশাখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হতে পারে।

সম্প্রতি