দাদন ব্যবসার লাগাম টানা প্রয়োজন

মেঘনা নদীতে জাটকা রক্ষায় প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো, ভবিষ্যৎ মৎস্য সম্পদ সুরক্ষা করা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ও ইলিশ ধরার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

এই সমস্যার পেছনে একটি বড় অর্থনৈতিক চক্র কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মাছের আড়তদার ও মহাজনেরা দাদন দিয়ে জেলেদের নদীতে নামতে উৎসাহিত করছেন। নৌকা, জাল, জ্বালানি ও অন্য খরচের যোগান দিচ্ছেন তারা। এর বিনিময়ে ধরা মাছের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে। ফলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই অর্থনৈতিক সম্পর্ক জেলেদের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে বাধ্য করছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় শুধু জেলেদের শাস্তি দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা বলা হচ্ছে। জাল জব্দ, জেলেদের আটক এবং দ- দেয়ার ঘটনাও ঘটছে। নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ভিজিএফের চালসহ কিছু সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও যদি নদীতে জাটকা ধরা চলতেই থাকে, তাহলে বোঝা যায় যে সমস্যার মূল উৎস অন্যত্র রয়েছে।

শুধু অভিযান চালিয়ে জেলেদের জেল-জরিমানা করলে সমস্যার সমাধান হবে না। দাদন ব্যবসা ও আড়তকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এই চক্র নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া গেলে জাটকা নিধন কমানো সহজ হবে। একই সঙ্গে জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। তাহলেই জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্য বাস্তবভাবে অর্জন করা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি