দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। গত বছরে দায়ের হওয়া নারী নির্যাতনের মোট মামলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ধর্ষণের অভিযোগ।
মামলার সংখ্যা বাড়লেও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি বড় উদ্বেগের বিষয়। সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এতে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ দুর্বল হয়ে যায়। এতে বিচারপ্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।
অতীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচারে গতি আনার চেষ্টা হয়েছে। তদন্ত ও বিচারের সময়সীমা কমানো হয়েছে, শাস্তির বিধান কঠোর করা হয়েছে। কিন্তু আইন সংশোধনই সমস্যার সমাধান নয়। বাস্তবে তদন্তের মান, সাক্ষ্য সংগ্রহের দক্ষতা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষীর অনুপস্থিতি, তদন্তের দুর্বলতা বা ভুক্তভোগীর অনীহার কারণে অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর সামাজিক সমস্যাও। সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচারব্যবস্থা, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সমাজে নারীর প্রতি সম্মান ও সমতা নিশ্চিত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
নারী নির্যাতনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি, সাক্ষী সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্যাম্পাস: জবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি শাখা ছাত্রদলের
অর্থ-বাণিজ্য: ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না
অর্থ-বাণিজ্য: ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না
অপরাধ ও দুর্নীতি: হাদি হত্যা: দুই আসামিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু