দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বিভিন্ন জেলায় মাঠভরা পেঁয়াজ থাকলেও বাজারে তার ন্যায্য দাম মিলছে না। উৎপাদন খরচ যেখানে প্রতি মণে প্রায় দেড় হাজার টাকা বা তার বেশি, সেখানে অনেক বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। ফলে অধিকাংশ কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ করে আবাদ করেছেন। এখন সেই ঋণ পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ। ভালো আবহাওয়া ও বেশি চাষাবাদের ফলে উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। চাহিদা কম থাকায় দাম দ্রুত পড়ে গেছে। এতে শুধু কৃষক নয়, অনেক ব্যবসায়ীও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা নেই। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের পক্ষে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করেন। অথচ কিছুদিন সংরক্ষণ করা গেলে বাজার পরিস্থিতি বদলাতে পারত। কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে এই অবকাঠামোগত দুর্বলতা দীর্ঘদিনের সমস্যা।
কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। উৎপাদন বাড়লে সেই অনুযায়ী বাজার পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে ভোক্তা উচ্চ দামে পণ্য কিনবে, অন্যদিকে কৃষক লোকসানে পড়বে।
কৃষি খাত দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। বাজার স্থিতিশীল রাখা, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো এবং উৎপাদন পরিকল্পনায় সমন্বয় আনা এখন সময়ের দাবি।
ক্যাম্পাস: জবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি শাখা ছাত্রদলের
অর্থ-বাণিজ্য: ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না
অর্থ-বাণিজ্য: ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না
অপরাধ ও দুর্নীতি: হাদি হত্যা: দুই আসামিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু