দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা গত প্রায় দশ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টানা চার মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিই মূলত এ ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।
গত মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে। খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে খাদ্যপণ্যের দাম তুলনামূলক দ্রুত বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো- মানুষের আয় বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। এর অর্থ হলো- মানুষের প্রকৃত আয় কমছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
দেশে গত তিন বছর ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এই দীর্ঘস্থায়ী চাপ অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং উৎপাদন ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পড়ে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বাজার তদারকি জোরদার করা, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মানুষের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম কার্যকর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যাম্পাস: জবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি শাখা ছাত্রদলের
অর্থ-বাণিজ্য: ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না
অর্থ-বাণিজ্য: ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না
অপরাধ ও দুর্নীতি: হাদি হত্যা: দুই আসামিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু