বাংলাদেশ ও দুর্যোগ শব্দ দুটি যেন আমাদের ভূপ্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকির কারণে এই ব-দ্বীপ রাষ্ট্রকে বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের হটস্পট বলা চলে। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা কিংবা আকস্মিক পাহাড় ধস আমাদের জানমালের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে। আশার কথা হলো, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলানোর জন্য যে বিশেষায়িত তাত্ত্বিক ও কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন, তার প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত স্বীকৃতির অভাব আজ প্রকট। দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও এই খাতের গ্রাজুয়েটদের জন্য নেই কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র বা বিশেষ ক্যাডার সুবিধা।
বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বা Disaster Management বিভাগ চালু করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর শত শত দক্ষ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছেন।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষায়িত অধিদপ্তর থাকলেও সেখানে এই খাতের গ্রাজুয়েটদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিয়োগ বিধিমালা নেই। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সাধারণ ক্যাডার বা ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের কর্মকর্তাদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। একজন কৃষিবিদের জন্য যেমন কৃষি ক্যাডার আছে বা প্রকৌশলীর জন্য এলজিইডি রয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গ্রাজুয়েটদের জন্য তেমন কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। মাঠপর্যায়ে দুর্যোগ হানা দিলে কেবল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দিয়ে সব সামলানো সম্ভব নয়; সেখানে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২-এ পেশাদারত্ব আনয়নের কথা স্পষ্টভাবে বলা থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। বিশেষজ্ঞ জনবল না থাকায় ত্রাণ বিতরণ বা পুনরুদ্ধার কাজে এখনো সনাতনী পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আব্দুর রকিবের মতে, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এখন আর কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, এটি একটি বৈজ্ঞানিক ও বহুমাত্রিক পেশাগত ক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে বিশেষায়িত জ্ঞান ছাড়া ঝুঁকি মোকাবিলা অসম্ভব।’
এই সংকট উত্তরণে বিসিএস পরীক্ষায় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্যাডার’ বা কারিগরি পদ সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট পদগুলো এই বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের জন্য সংরক্ষিত করতে হবে। দুর্যোগের দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপকদের স্বীকৃতি না থাকাটা অনেকটা দক্ষ ক্যাপ্টেন ছাড়া জাহাজ চালানোর চেষ্টার মতো। সময় এসেছে এই মেধাবী গ্রাজুয়েটদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার। তাদের হাত ধরেই দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আগামী দিনে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে।
আল শাহারিয়া
রংপুর সদর, রংপুর
ক্যাম্পাস: জবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি শাখা ছাত্রদলের
অর্থ-বাণিজ্য: ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না
অর্থ-বাণিজ্য: ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না
অপরাধ ও দুর্নীতি: হাদি হত্যা: দুই আসামিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু