মধুপুরে একটি গারো পরিবারকে ঘর নির্মাণে বাধা দেয়া এবং অস্ত্র তাক করে ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশে বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসতি ও ভূমি নিয়ে বিরোধ দেখা যায়। মধুপুরের ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে, আদিবাসীদের ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি।
সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি গারো পরিবার নতুন ঘর নির্মাণ শুরু করলে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে ঘরের খুঁটি ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কিছু সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
মধুপুর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। কিন্তু তাদের অনেকের জমির আইনি স্বীকৃতি স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে বনভূমি, রাবার বাগান বা সরকারি জমি নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও প্রায়ই বিরোধ তৈরি করে। এই অনিশ্চয়তার কারণেই অনেক পরিবার উচ্ছেদের আশঙ্কায় বসবাস করে।
সিলেটের আরেকটি ঘটনা একই ধরনের বাস্তবতা তুলে ধরে। সেখানে কয়েক দশক ধরে বসবাস করা গারো পরিবারগুলো আবাসন প্রকল্পের কারণে উচ্ছেদের আতঙ্কে রয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা থাকলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে বসবাস করছে, কর দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সব দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু জমির অধিকার নির্দিষ্ট না হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না।
দেশে আদিবাসীদের বসতি ও ভূমি প্রশ্নে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সমাধান প্রয়োজন। প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সময় মানবিক ও আইনগত দুই দিকই বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে বসতভিটা সংক্রান্ত বিষয়ে আগে নোটিশ, সংলাপ ও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
সংবিধানে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে। আদিবাসীদের বসতির অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ।