alt

উপ-সম্পাদকীয়

একাত্তরের গণহত্যার খন্ডচিত্র

সাদেকুর রহমান

: শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

(গতকালের পর)

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকার কমান্ডার ফয়েজ হোসেনের সহযোগিতায় বাড়ি বাড়ি প্রবেশ করে পুরুষ সদস্যদের লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার শুরু করে। এ সময় বিভিন্ন বাড়িতে থাকা পুরুষরা প্রাণ বাঁচাতে রুদ্ধশ্বাসে পালাতে শুরু করেন। কিন্তু আগেই গোটা গ্রাম ঘেরাও করায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ঘাটারচর গ্রামবাসী।

এ সময় পাকিস্তানি সেনারা ঘাটারচরের টানপাড়া, পশ্চিমপাড়া, পূর্বপাড়া, ভাওয়াল খান বাড়িসহ পুরো ঘাটারচরের বাড়ি বাড়ি থেকে পুরুষদের টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে খালপাড় ও ঘাটারচর মাঠে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে গণহত্যা চালায়। মুহূর্তেই শহীদ হন ৫৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী। সন্ত্রস্ত গ্রামবাসী তখন মাটি খুঁড়ে শহীদদের গণকবর দেয়। একটি গণকবরেই ৩৪ জনকে মাটিচাপা দেয়া হয়।

ঘাটারচর গণহত্যায় ২ ভাই আরজ আলী ও দরবেশ আলীকে হারালেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন শমসের আলী। তিনি বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে আমাদের বাড়িতে ঢুকল পাকিস্তানি আর্মি। ঘরে আমরা ভাইবোনরা ছিলাম। ওরা আমার বড় ভাইকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে গেটের সামনে ব্রাশফায়ার করে মারল। আরেক ভাইকে মাঠে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারল। বড় ভাইকে যখন ব্রাশফায়ার করে মারল তখনই আমি প্রাণ বাঁচাতে ছুটে গিয়ে বাড়ির পাশের জঙ্গলে লুকালাম। ওরা আর আমাকে দেখতে না পাওয়ায় বেঁচে গেলাম।’

শমসের আলী আরও বললেন, ‘ঘাটারচরে আমরা কেবল একটি গণকবরেই ৩৪ জন মানুষকে একসঙ্গে মাটিচাপা দিয়েছিলাম। চারদিকে তখন শুধু লাশ আর লাশ। কয়জনের জন্য আর কবর খুঁড়ব। তাই গণকবর খুঁড়েই দাফন করেছিলাম।’

ভোর ৬টায় শুরু হওয়া ঘাটারচর গণহত্যা শেষ হয় সকাল ৮টায়। এরপর আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পায়ে হেঁটে ঘাটারচরের পাশে ভাওয়াল গ্রামের সড়কে এসে উপস্থিত হয়।

প্রথমে পাকিস্তানি সেনাদের বড় একটি দল ভাওয়াল স্কুলের পাশ দিয়ে প্রবেশ করে গ্রামের উত্তর ও পশ্চিম দিক পুরোপুরি ঘেরাও করে ফেলে। এরপর বাকি হানাদার সেনারা গ্রামের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবেশ করে। পাকিস্তানি সেনাদের দেখতে পেয়েই ছুটতে শুরু করেন গ্রামবাসী। এ সময় রাজাকাররা গ্রামবাসীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবে না বলে আশ্বস্ত করে বাড়িতে থাকতে বলে।

বেশিরভাগ গ্রামবাসী পালিয়ে গেলেও অবশিষ্টরা রাজাকারদের কথা বিশ্বাস করে বাড়িতে যান। তাদের তখন শান্ত হয়ে বসতে বলে রাজাকাররা। গ্রামবাসী বসামাত্রই ব্রাশফায়ার শুরু করে হানাদার সেনারা। নির্মমভাবে শহীদ হন ২৯ জন নিরীহ গ্রামবাসী।

ভাওয়াল গণহত্যায় অমর চান হারিয়েছেন তার পরিবারের ৭ সদস্যকে। ভাওয়াল গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। ভাগ্যক্রমে সেদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও আজও তার চোখে ভাসে হানাদার ও রাজাকারদের নির্মমতার পৈশাচিক দৃশ্য।

অমর চানের ভাষায়, ‘সকাল ৮টা-সাড়ে ৮টা হইব। দেখলাম মিলিটারি আর মুখে গামছা বাঁধা কয়েকজন সড়ক দিয়া যাচ্ছে। আমরা সবাই খালপাড় দিয়ে দৌড়াতে লাগলাম। গিয়া দেখলাম ওরা স্কুলের পাশ দিয়া ঘেরাও করছে। তখন রাজাকারর আমগোরে ফিরাইল। রাজাকাররা বলল, আপনারা বাড়িত যান আপনাগো কোনো ক্ষতি হবে না।

আমরা বাড়িতে গিয়ে বসার সঙ্গেসঙ্গে শুরু করল গুলি। ওরা যখন ব্রাশফায়ার শুরু করল তখন আমি আমার ক্ষণিকের মধ্যেই বড় পোলারে কোলে নিয়া খালপাড় দিয়া পলাইলাম। আর আমার বউ আমার ছোট পোলারে নিয়া উত্তর দিকে দৌড় দিলো। গুলি খাইয়া আমার বাপ, বোন, বোন জামাই, ছোট ভাই, ভাগ্নি, ভাইগ্নারা পলাইতে পারে নাই।

আমরা যখন কিছুক্ষণ পর বাড়ির দিকে আসলাম। বাড়ির আসতে গিয়া দেখি কাছের একটা আমগাছের সামনে মিলিটারি খাড়া। এখন যদি আমি দৌড় দিই তাহলে মাইরা ফালাইতে পারে। আমি হাত উঁচু করতে ওরা বেশ কয়েকটা প্রশ্ন করল। শেষে ওরা আমারে ছাইড়া দিয়া ভাগতে কইল। আমরা ভাইগা গেলাম বন্দের হাফাড়। কপালের জোরে বাইচা গেলাম। সেদিন আর বাড়িত আইলাম না। পরদিন সকালবেলা আইয়া দেখি সব লাশ পইড়া রইছে একখানে। আমার বাপের লাশটা আধা মাইল দূরে গিয়া খুঁইজা পাইলাম। সেদিন পাশের বাড়ির ২ জন মিলে মোট ৯ জনের লাশ দাফন করলাম বাড়ির সামনে।

ভাওয়াল গ্রামের গণহত্যায় প্রাণ হারান অমর চানের বাবা, বড় বোন, বড় বোনের স্বামী, ছোট ভাই, দুই ভাগ্নে ও এক ভাগ্নি। তার বোন বিষকা রানীর শরীরে ৭টি গুলি লাগলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

এই গণহত্যায় বড় ভাওয়াল ঋষিপাড়ার বাসিন্দা ভারতী রাণী হারিয়েছিলেন তার স্বামী রামচরণ ও পিসতুতো ভাই (ফুফুর ছেলে) যুদ্ধু দাসকে।

ভারতী রাণীর জবানীতে ভাওয়াল গণহত্যার বর্ণনা এসেছে এভাবে- ‘আগের রাতে আমি আর আমার পিসতুতো ভাই বাপের বাড়ির থেইকা আসছি। সকাল বেলা মিলিটারি দেইখা আমরা বেবাকটি দৌড়াইলাম। ওরা মারুম না কইতে কইতে সবটি থাইমা গেল। তখন বেবাকরে খালপাড়ে আইনা জড়ো করল। এরপর গুলি শুরু করল। আমার স্বামীর ২ পায়ে দুইটা গুলি লাগছিল। তিনি মরার ভান ধরে পইড়া আছিলেন যেন মিলিটারি বা রাজাকারেরা জিন্দা আছে বুঝবার না পারে। আমরা কয়েকজন পালাইতে পারলাম। মিলিটারি যখন চইলা গেল তখন বাড়ির থেইকা কেউ কেউ আইসা খবর দিলো, তোমার স্বামী আর তোমার পিসতুতো ভাইরে তো মাইরা ফালাইছে। আমরা দৌড়াইয়া বাড়িত আইসা দেখি আমার স্বামীরে কয়েকজন ধইরা হাসপাতালে লইয়া যাইতাছে। শাশুড়ি হাসপাতালে গেলেও আমি যাই নাই। হাসপাতালে যাওয়ার পরে রাজাকাররা যখন আমার শাশুড়ি জিজ্ঞেস করলো আপনারা কই থেইকা আইলেন? আমার শাশুড়ি যখন কইল আটি ভাওয়াল। তখন রাজাকাররা কইল যেই জায়গায় মানুষ মারলাম হেই জায়গা থেইকাই আইলো। পরদিন আমার শাশুড়ি বাড়ির থেইকা ভাত নিয়া গিয়ে দেখে আমার স্বামী বিছানায় নাই। রাজাকাররা নিয়া মাইরা ফালাইছে। লাশটাও আর পাই নাই। পিসতুতো ভাই ও পাশের বাড়ির যারা মরল তাগোরে নিয়া মোট ১১ জনরে বাড়ির সামনে গর্ত খুঁইড়া আমরা মাটিচাপা দিলাম।’

রাজশাহীতে গণহত্যা : ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজাকার-আল-বদরদের মদতে রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে গণহত্যা চালায়। মুক্তিকামী শিক্ষকসহ আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী সংগঠক, সমাজসেবীসহ বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করে পাকিস্তানি সৈন্য আর তাদের দোসররা। সেদিন রাজশাহীর বর্তমান শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে টি-বাঁধসংলগ্ন শ্রীরামপুর পদ্মা নদীর তীরে একসঙ্গে সবাইকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় বালুর নিচে পুঁতে দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

সেদিন শহীদ হয়েছিলেন অধ্যাপক মীর আবদুল কাইউম, আজিজুল হক চৌধুরী, মকবুল চৌধুরী, আলতাফ হোসেন, তসলিম উদ্দিন, আবুল হোসেন, চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন, তৈয়ব আলী, নওরোজদৌল্লাহ খান, শহীদ মীর্জা সুলতান, শহীদ আমিনুল হক চৌধুরী। বাকি আরও ছয় জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ১৯৯৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাজশাহী সিটি করপোরেশন ওই স্থানে এই শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করে।

কামান্না গণহত্যা : ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কামান্না গ্রামে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনী ভোর না হতেই মাধব ভৌমিকের বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং নির্বিচারে হত্যা চালায়। তারা ২৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এ সময় ভুল করে মুক্তিবাহিনীর হাতে আটকা তিনজন রাজাকারকেও মেরে ফেলে পাকিস্তানি সেনারা।

কামান্না বর্তমান ঝিনাইদহ জেলা শৈলকূপা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বগুড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম। হাটফাজিলপুর বাজার ব্রিজের উত্তরে কুমার নদীর কোলঘেঁষে গ্রামটির অবস্থান। শৈলকূপা উপজেলা সদর থেকে ১৩-১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কামান্না গ্রামের পূর্বদিকে বগুড়া, পশ্চিমে নওপাড়া, বারইহুদা। নদীর ওপারে ফাজিলপুর, আবাইপুর, মিনগ্রাম। আবার এই গ্রামটি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার পশ্চিমের শেষ সীমানায়।

সেদিনের সকালটা ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। হাড়কাঁপানো শীত। ঘনকুয়াশায় ভরা চারপাশ। কাছের মানুষকেও চোখে দেখা যায় না। কামান্নায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন কু-ুপাড়া। এখানে হিন্দুদের বাস। তারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই অনেকে নিরাপদ স্থান ভেবে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। আবার অনেকে মা মাটি কিংবা নিজের পৈতৃক ভিটাকে বুকে আঁকড়ে পড়ে আছেন। এই কু-ুপাড়াতেই মাধব ভৌমিক নামে একজন অর্থশালী মানুষের বাস ছিল। তিনিও পাড়ি দেন ভারতে। তাই তার ঘরবাড়ি শূন্য পড়ে রয়েছে। এখানেই এসে আশ্রয় নিয়েছে বাঙালির প্রায় ৮০-৯০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যারা এই মাধব ভৌমিকের বাড়িকেই অস্থায়ী ক্যাম্প এবং নিজেদের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেন। এই বাড়ির মূল আঙ্গিনায় বেশ কয়েকটি টিনের ঘর পাশাপাশি। এখানেই তারা অবস্থান করেন। কে জানে এই বীরদের রক্তেই ভাসবে মাধবে বাড়ির আঙ্গিনা। ২৬ নভেম্বরের সেই বীভৎস স্মৃতি আজও শরীরে মেখে দাঁড়িয়ে আছে এই ঘরগুলো। তার শরীরে শত শত গুলির চিহ্ন।

কামান্না মাধ্যমিক স্কুলে কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি সেনারা ক্যাম্প করেছিল এবং মানুষের বাড়ি থেকে গরু-ছাগল ধরে এনে তারা রান্না করে খেতেন। তাদের সঙ্গী ছিল রাজাকার আল-বদর বাহিনী। কয়েকদিন পরে তারা আবার এখান থেকে চলেও যায়।

সেদিন চারদিক থেকেই এই বাড়ি শত্রুসেনারা ঘিরে ফেলে। ঝিনাইদহ হয়ে যুগনি-বাগনী দিয়ে উঠেছে। আবার ঝিনাইদহ হয়ে সাবাসপুর দিয়ে নিত্যানন্দপুর হয়ে এবং মাগুরা থেকে শ্রীপুর হয়ে নদীর পাড় দিয়ে এই পথে ঢুকে তারা চারদিক থেকে ঘেরাও করেছে। এই মাধব ভৌমিকের টিনের ঘরে আশ্রয় নেয়া মুক্তিবাহিনীর কথা রাজাকার মারফত মিলিটারিদের কানে যায় এবং তারা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই টিনের ঘরে ঘুমন্ত বীরদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আগে থেকেই বাড়ির চারদিক মিলিটারি বাহিনী ঘিরে ফেলে। এই বাড়িতে থাকা সবচেয়ে ছোট যোদ্ধা আবুল বাশার বাঁশি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বের হয়। টিউবওয়েল থেকে গাড়ুতে (হিন্দুদের ব্যবহূত বদনা) পানি নিয়ে প্রকৃতির কাজ করতে যেতে দেখেন ঘরের কোণে কদবেল পড়ে আছে। সেই কদবেলের লোভ সামলাতে না পেরে তিনি কদবেল নিতে গেলে তিনিই সর্বপ্রথম মিলিটারিদের আগমন টের পান। এমন অবস্থায় বাঁশি কী করবেন বুঝতে পারছে না। এসব ভাবতে ভাবতে মিলিটারি বাহিনী তার কাছে চলে আসে এবং তাকে গ্রামের একজন নিছক কিশোর ভেবে তার গায়ে হাত দিয়ে ‘ওদারসে যাও’ বলে।

(চলবে)

[লেখক: সমন্বয়ক ও গবেষক, ‘প্রবাসে প্রিয়জন’ অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ টেলিভিশন]

গণতন্ত্র কি তাহলে বিদায়ের পথে

কাঁঠাল হতে পারে রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

ছবি

প্রাণের মেলা

গণতন্ত্র কি তাহলে বিদায়ের পথে

সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত হোক

সাঁওতালী ভাষা বিতর্ক এবং উত্তরবঙ্গের আদিবাসী

ভাষা আন্দোলনের সূতিকাগার রাজধানীর আজিমপুর

ছবি

ভাষা আন্দোলন ও বাঙালির নবজাগরণ

খুলনায় একুশে বইমেলার মুগ্ধতা

মধুরতম ভাষা ও রক্তাক্ত বাংলা

উৎসব ও প্রথার বিবর্তন

চুরমার ফিলিস্তিন ও খাদ্য রাজনীতি

কুষ্ঠজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে করণীয়

যুব ক্ষমতায়ন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণকে ত্বরান্বিত করবে

লাইব্রেরির ভবিষ্যৎ ও ভবিষ্যতের লাইব্রেরি

একজীবনে অনেক বছর বেঁচে থেকেও নিজেকে চেনা হয়ে ওঠে না

“ছুরি-কাঁটা ও নব্যধনী”

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সন্দেশখালি লাইন

শিশুরও হতে পারে ক্যান্সার, প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

চিকিৎসা নিতে কেন ভারতে গিয়েছিলাম

ইসরায়েলের গণহত্যা, দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা

বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু গণিত

ছবি

সুন্দরবন কি আরেকটু বেশি মনোযোগ পেতে পারে না

নিজেকে বরং নিজেই প্রশ্ন করতে শিখুন

গড়ে উঠুক সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

ছবি

বিদ্যা দেবী মা সরস্বতী

বিশ্ব বেতার দিবস ও বাংলাদেশ বেতার

কৃষিবিদ দিবস

ছয় বছরের অর্জন ও প্রত্যাশা

জলবায়ু সম্মেলন এবং নয়া উদারবাদী কর্তৃত্ব

জিআই সনদের সন্ধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ

নির্বাচন ও সামাজিক অস্থিরতা

ছবি

খাদ্যে আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরোনোর পথ কী

ছবি

ট্রাম্প দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন, তবে পথ মসৃণ নয়

দুর্নীতিবাজদের খতম করা যাবে কি?

মূল্যস্ফীতি কমবে কীভাবে

tab

উপ-সম্পাদকীয়

একাত্তরের গণহত্যার খন্ডচিত্র

সাদেকুর রহমান

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

(গতকালের পর)

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকার কমান্ডার ফয়েজ হোসেনের সহযোগিতায় বাড়ি বাড়ি প্রবেশ করে পুরুষ সদস্যদের লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার শুরু করে। এ সময় বিভিন্ন বাড়িতে থাকা পুরুষরা প্রাণ বাঁচাতে রুদ্ধশ্বাসে পালাতে শুরু করেন। কিন্তু আগেই গোটা গ্রাম ঘেরাও করায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ঘাটারচর গ্রামবাসী।

এ সময় পাকিস্তানি সেনারা ঘাটারচরের টানপাড়া, পশ্চিমপাড়া, পূর্বপাড়া, ভাওয়াল খান বাড়িসহ পুরো ঘাটারচরের বাড়ি বাড়ি থেকে পুরুষদের টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে খালপাড় ও ঘাটারচর মাঠে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে গণহত্যা চালায়। মুহূর্তেই শহীদ হন ৫৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী। সন্ত্রস্ত গ্রামবাসী তখন মাটি খুঁড়ে শহীদদের গণকবর দেয়। একটি গণকবরেই ৩৪ জনকে মাটিচাপা দেয়া হয়।

ঘাটারচর গণহত্যায় ২ ভাই আরজ আলী ও দরবেশ আলীকে হারালেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন শমসের আলী। তিনি বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে আমাদের বাড়িতে ঢুকল পাকিস্তানি আর্মি। ঘরে আমরা ভাইবোনরা ছিলাম। ওরা আমার বড় ভাইকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে গেটের সামনে ব্রাশফায়ার করে মারল। আরেক ভাইকে মাঠে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারল। বড় ভাইকে যখন ব্রাশফায়ার করে মারল তখনই আমি প্রাণ বাঁচাতে ছুটে গিয়ে বাড়ির পাশের জঙ্গলে লুকালাম। ওরা আর আমাকে দেখতে না পাওয়ায় বেঁচে গেলাম।’

শমসের আলী আরও বললেন, ‘ঘাটারচরে আমরা কেবল একটি গণকবরেই ৩৪ জন মানুষকে একসঙ্গে মাটিচাপা দিয়েছিলাম। চারদিকে তখন শুধু লাশ আর লাশ। কয়জনের জন্য আর কবর খুঁড়ব। তাই গণকবর খুঁড়েই দাফন করেছিলাম।’

ভোর ৬টায় শুরু হওয়া ঘাটারচর গণহত্যা শেষ হয় সকাল ৮টায়। এরপর আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পায়ে হেঁটে ঘাটারচরের পাশে ভাওয়াল গ্রামের সড়কে এসে উপস্থিত হয়।

প্রথমে পাকিস্তানি সেনাদের বড় একটি দল ভাওয়াল স্কুলের পাশ দিয়ে প্রবেশ করে গ্রামের উত্তর ও পশ্চিম দিক পুরোপুরি ঘেরাও করে ফেলে। এরপর বাকি হানাদার সেনারা গ্রামের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবেশ করে। পাকিস্তানি সেনাদের দেখতে পেয়েই ছুটতে শুরু করেন গ্রামবাসী। এ সময় রাজাকাররা গ্রামবাসীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবে না বলে আশ্বস্ত করে বাড়িতে থাকতে বলে।

বেশিরভাগ গ্রামবাসী পালিয়ে গেলেও অবশিষ্টরা রাজাকারদের কথা বিশ্বাস করে বাড়িতে যান। তাদের তখন শান্ত হয়ে বসতে বলে রাজাকাররা। গ্রামবাসী বসামাত্রই ব্রাশফায়ার শুরু করে হানাদার সেনারা। নির্মমভাবে শহীদ হন ২৯ জন নিরীহ গ্রামবাসী।

ভাওয়াল গণহত্যায় অমর চান হারিয়েছেন তার পরিবারের ৭ সদস্যকে। ভাওয়াল গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। ভাগ্যক্রমে সেদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও আজও তার চোখে ভাসে হানাদার ও রাজাকারদের নির্মমতার পৈশাচিক দৃশ্য।

অমর চানের ভাষায়, ‘সকাল ৮টা-সাড়ে ৮টা হইব। দেখলাম মিলিটারি আর মুখে গামছা বাঁধা কয়েকজন সড়ক দিয়া যাচ্ছে। আমরা সবাই খালপাড় দিয়ে দৌড়াতে লাগলাম। গিয়া দেখলাম ওরা স্কুলের পাশ দিয়া ঘেরাও করছে। তখন রাজাকারর আমগোরে ফিরাইল। রাজাকাররা বলল, আপনারা বাড়িত যান আপনাগো কোনো ক্ষতি হবে না।

আমরা বাড়িতে গিয়ে বসার সঙ্গেসঙ্গে শুরু করল গুলি। ওরা যখন ব্রাশফায়ার শুরু করল তখন আমি আমার ক্ষণিকের মধ্যেই বড় পোলারে কোলে নিয়া খালপাড় দিয়া পলাইলাম। আর আমার বউ আমার ছোট পোলারে নিয়া উত্তর দিকে দৌড় দিলো। গুলি খাইয়া আমার বাপ, বোন, বোন জামাই, ছোট ভাই, ভাগ্নি, ভাইগ্নারা পলাইতে পারে নাই।

আমরা যখন কিছুক্ষণ পর বাড়ির দিকে আসলাম। বাড়ির আসতে গিয়া দেখি কাছের একটা আমগাছের সামনে মিলিটারি খাড়া। এখন যদি আমি দৌড় দিই তাহলে মাইরা ফালাইতে পারে। আমি হাত উঁচু করতে ওরা বেশ কয়েকটা প্রশ্ন করল। শেষে ওরা আমারে ছাইড়া দিয়া ভাগতে কইল। আমরা ভাইগা গেলাম বন্দের হাফাড়। কপালের জোরে বাইচা গেলাম। সেদিন আর বাড়িত আইলাম না। পরদিন সকালবেলা আইয়া দেখি সব লাশ পইড়া রইছে একখানে। আমার বাপের লাশটা আধা মাইল দূরে গিয়া খুঁইজা পাইলাম। সেদিন পাশের বাড়ির ২ জন মিলে মোট ৯ জনের লাশ দাফন করলাম বাড়ির সামনে।

ভাওয়াল গ্রামের গণহত্যায় প্রাণ হারান অমর চানের বাবা, বড় বোন, বড় বোনের স্বামী, ছোট ভাই, দুই ভাগ্নে ও এক ভাগ্নি। তার বোন বিষকা রানীর শরীরে ৭টি গুলি লাগলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

এই গণহত্যায় বড় ভাওয়াল ঋষিপাড়ার বাসিন্দা ভারতী রাণী হারিয়েছিলেন তার স্বামী রামচরণ ও পিসতুতো ভাই (ফুফুর ছেলে) যুদ্ধু দাসকে।

ভারতী রাণীর জবানীতে ভাওয়াল গণহত্যার বর্ণনা এসেছে এভাবে- ‘আগের রাতে আমি আর আমার পিসতুতো ভাই বাপের বাড়ির থেইকা আসছি। সকাল বেলা মিলিটারি দেইখা আমরা বেবাকটি দৌড়াইলাম। ওরা মারুম না কইতে কইতে সবটি থাইমা গেল। তখন বেবাকরে খালপাড়ে আইনা জড়ো করল। এরপর গুলি শুরু করল। আমার স্বামীর ২ পায়ে দুইটা গুলি লাগছিল। তিনি মরার ভান ধরে পইড়া আছিলেন যেন মিলিটারি বা রাজাকারেরা জিন্দা আছে বুঝবার না পারে। আমরা কয়েকজন পালাইতে পারলাম। মিলিটারি যখন চইলা গেল তখন বাড়ির থেইকা কেউ কেউ আইসা খবর দিলো, তোমার স্বামী আর তোমার পিসতুতো ভাইরে তো মাইরা ফালাইছে। আমরা দৌড়াইয়া বাড়িত আইসা দেখি আমার স্বামীরে কয়েকজন ধইরা হাসপাতালে লইয়া যাইতাছে। শাশুড়ি হাসপাতালে গেলেও আমি যাই নাই। হাসপাতালে যাওয়ার পরে রাজাকাররা যখন আমার শাশুড়ি জিজ্ঞেস করলো আপনারা কই থেইকা আইলেন? আমার শাশুড়ি যখন কইল আটি ভাওয়াল। তখন রাজাকাররা কইল যেই জায়গায় মানুষ মারলাম হেই জায়গা থেইকাই আইলো। পরদিন আমার শাশুড়ি বাড়ির থেইকা ভাত নিয়া গিয়ে দেখে আমার স্বামী বিছানায় নাই। রাজাকাররা নিয়া মাইরা ফালাইছে। লাশটাও আর পাই নাই। পিসতুতো ভাই ও পাশের বাড়ির যারা মরল তাগোরে নিয়া মোট ১১ জনরে বাড়ির সামনে গর্ত খুঁইড়া আমরা মাটিচাপা দিলাম।’

রাজশাহীতে গণহত্যা : ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজাকার-আল-বদরদের মদতে রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে গণহত্যা চালায়। মুক্তিকামী শিক্ষকসহ আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী সংগঠক, সমাজসেবীসহ বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করে পাকিস্তানি সৈন্য আর তাদের দোসররা। সেদিন রাজশাহীর বর্তমান শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে টি-বাঁধসংলগ্ন শ্রীরামপুর পদ্মা নদীর তীরে একসঙ্গে সবাইকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় বালুর নিচে পুঁতে দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

সেদিন শহীদ হয়েছিলেন অধ্যাপক মীর আবদুল কাইউম, আজিজুল হক চৌধুরী, মকবুল চৌধুরী, আলতাফ হোসেন, তসলিম উদ্দিন, আবুল হোসেন, চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন, তৈয়ব আলী, নওরোজদৌল্লাহ খান, শহীদ মীর্জা সুলতান, শহীদ আমিনুল হক চৌধুরী। বাকি আরও ছয় জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ১৯৯৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাজশাহী সিটি করপোরেশন ওই স্থানে এই শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করে।

কামান্না গণহত্যা : ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কামান্না গ্রামে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনী ভোর না হতেই মাধব ভৌমিকের বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং নির্বিচারে হত্যা চালায়। তারা ২৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এ সময় ভুল করে মুক্তিবাহিনীর হাতে আটকা তিনজন রাজাকারকেও মেরে ফেলে পাকিস্তানি সেনারা।

কামান্না বর্তমান ঝিনাইদহ জেলা শৈলকূপা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বগুড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম। হাটফাজিলপুর বাজার ব্রিজের উত্তরে কুমার নদীর কোলঘেঁষে গ্রামটির অবস্থান। শৈলকূপা উপজেলা সদর থেকে ১৩-১৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কামান্না গ্রামের পূর্বদিকে বগুড়া, পশ্চিমে নওপাড়া, বারইহুদা। নদীর ওপারে ফাজিলপুর, আবাইপুর, মিনগ্রাম। আবার এই গ্রামটি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার পশ্চিমের শেষ সীমানায়।

সেদিনের সকালটা ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। হাড়কাঁপানো শীত। ঘনকুয়াশায় ভরা চারপাশ। কাছের মানুষকেও চোখে দেখা যায় না। কামান্নায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন কু-ুপাড়া। এখানে হিন্দুদের বাস। তারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই অনেকে নিরাপদ স্থান ভেবে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। আবার অনেকে মা মাটি কিংবা নিজের পৈতৃক ভিটাকে বুকে আঁকড়ে পড়ে আছেন। এই কু-ুপাড়াতেই মাধব ভৌমিক নামে একজন অর্থশালী মানুষের বাস ছিল। তিনিও পাড়ি দেন ভারতে। তাই তার ঘরবাড়ি শূন্য পড়ে রয়েছে। এখানেই এসে আশ্রয় নিয়েছে বাঙালির প্রায় ৮০-৯০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যারা এই মাধব ভৌমিকের বাড়িকেই অস্থায়ী ক্যাম্প এবং নিজেদের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেন। এই বাড়ির মূল আঙ্গিনায় বেশ কয়েকটি টিনের ঘর পাশাপাশি। এখানেই তারা অবস্থান করেন। কে জানে এই বীরদের রক্তেই ভাসবে মাধবে বাড়ির আঙ্গিনা। ২৬ নভেম্বরের সেই বীভৎস স্মৃতি আজও শরীরে মেখে দাঁড়িয়ে আছে এই ঘরগুলো। তার শরীরে শত শত গুলির চিহ্ন।

কামান্না মাধ্যমিক স্কুলে কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি সেনারা ক্যাম্প করেছিল এবং মানুষের বাড়ি থেকে গরু-ছাগল ধরে এনে তারা রান্না করে খেতেন। তাদের সঙ্গী ছিল রাজাকার আল-বদর বাহিনী। কয়েকদিন পরে তারা আবার এখান থেকে চলেও যায়।

সেদিন চারদিক থেকেই এই বাড়ি শত্রুসেনারা ঘিরে ফেলে। ঝিনাইদহ হয়ে যুগনি-বাগনী দিয়ে উঠেছে। আবার ঝিনাইদহ হয়ে সাবাসপুর দিয়ে নিত্যানন্দপুর হয়ে এবং মাগুরা থেকে শ্রীপুর হয়ে নদীর পাড় দিয়ে এই পথে ঢুকে তারা চারদিক থেকে ঘেরাও করেছে। এই মাধব ভৌমিকের টিনের ঘরে আশ্রয় নেয়া মুক্তিবাহিনীর কথা রাজাকার মারফত মিলিটারিদের কানে যায় এবং তারা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই টিনের ঘরে ঘুমন্ত বীরদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আগে থেকেই বাড়ির চারদিক মিলিটারি বাহিনী ঘিরে ফেলে। এই বাড়িতে থাকা সবচেয়ে ছোট যোদ্ধা আবুল বাশার বাঁশি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বের হয়। টিউবওয়েল থেকে গাড়ুতে (হিন্দুদের ব্যবহূত বদনা) পানি নিয়ে প্রকৃতির কাজ করতে যেতে দেখেন ঘরের কোণে কদবেল পড়ে আছে। সেই কদবেলের লোভ সামলাতে না পেরে তিনি কদবেল নিতে গেলে তিনিই সর্বপ্রথম মিলিটারিদের আগমন টের পান। এমন অবস্থায় বাঁশি কী করবেন বুঝতে পারছে না। এসব ভাবতে ভাবতে মিলিটারি বাহিনী তার কাছে চলে আসে এবং তাকে গ্রামের একজন নিছক কিশোর ভেবে তার গায়ে হাত দিয়ে ‘ওদারসে যাও’ বলে।

(চলবে)

[লেখক: সমন্বয়ক ও গবেষক, ‘প্রবাসে প্রিয়জন’ অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ টেলিভিশন]

back to top