মাসুদুর রহমান
ঈদযাত্রায় গণপরিবহনে নৈরাজ্য চরম আকার ধারণ করে
গণপরিবহন যে কোনো দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা। কেননা, সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা সরাসরি এটার সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি দেশের গণপরিষেবার চিত্র অধিক ফুটে ওঠে এটার মাধ্যমেই। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এই চিত্রটা যথেষ্ট হতাশার! আমাদের দেশের তাবৎ পরিবহন সেক্টরের সর্বাধিক সমালোচিত কোনো খাতের নাম যদি উচ্চারিত হয় তবে একবাক্যে এই গণপরিবহনের কথাই উঠে আসে। যাত্রী হয়রানি, অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া, ট্রাফিক বিধি অবজ্ঞা, ঝুঁকিপূর্ণ চালনা ইত্যাদি বিচিত্র অভিযোগে জর্জরিত এই পরিবহন খাতটি।
সারা বছরই সাধারণ মানুষ গণপরিবহনের দ্বারা এসব অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হয়। বিধি অনুযায়ী বড় বাসে সর্বোচ্চ আসন থাকবে ৫২টি। ছোট বাসে থাকবে ৩০টি। ডাবল সিটে পারস্পরিক দূরত্ব থাকবে ২৬ ইঞ্চি। কিন্তু অধিকাংশ পরিবহন, বিশেষ করে লোকাল পরিবহন, এ বিধির তোয়াক্কা করে না। সেখানে ডাবল সিটগুলোতে দুজন বসা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। দ-ায়মান যাত্রীর বিধান না থাকলেও নির্ধারিত আসনের বাইরে তা নেয়া হচ্ছে। এমনকি গাড়ির ইঞ্জিন কভারের ওপর বসিয়েও যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এসব করা হচ্ছে অধিক মুনাফার লোভে।
আর সড়কের নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা তো বলাই বাহুল্য। প্রতি বছর শত শত যাত্রী সড়কে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। পঙ্গুত্ব বরণ করছে অসংখ্য। ২০১৮ সালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে গণপরিবহনের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যুকে ঘিরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ফুঁসে ওঠে। পরবর্তীতে তা গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়। প্রণীত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়কে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শাস্তিস্বরূপ ১ মাসের কারাদ- বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের প্রবিধান রাখা হয়েছে। ওই আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ মর্মে মহামান্য উচ্চ আদালত রুল জারি করেছে।
কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রতিপালিত হয় না। বিশেষ করে ঈদ যাত্রায় গণপরিবহনে নৈরাজ্য চরমে ওঠে! ঈদে ঘরমুখো মানুষের আবেগকে পুঁজি করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে এ দৃশ্য ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ কখনো এর চেয়েও অধিক আদায় করা হয়। নিরূপায় হয়ে এই সিন্ডিকেটের কোপানলে অসংখ্য যাত্রী আর্থিক বলিদানের শিকার হয়।
প্রতি বছরই ঈদের আগে সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগ ভাড়া বাড়ানোর ওপর বিধিনিষেধ ঘোষণা করার পরেও তা এরা থোরায় তোয়াক্কা করে চলেছে। এমনকি স্থান বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত তদারকি করলেও আদালতকেও হুমকির মুখে পড়তে দেখা যায়। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গাবতলি থেকে মানিকগঞ্জগামী একটি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাস কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করেন। পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত শ্রমিক নেতাদের আসকারায় পরিবহন শ্রমিকদের সৃষ্ট অশালীন পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট স্থান ত্যাগ করেন।
যাত্রীরা ম্যাজিস্ট্রেটকে অভিযোগ করায় পরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাস থেকে সব যাত্রী নামিয়ে দেয়। যাত্রীরাও অসহায়ের মতো তখন চরম ভোগান্তির শিকার হন। এটি আদালত অবমাননার সামিল বটে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা যায়নি। প্রতি ঈদে শুধু ঢাকা শহর ছাড়তেই কয়েকশ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়ার নামে লোপাট করা হয়। এর প্রায় পুরোটাই নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শ্রমিক ও দিনমজুরের মতো খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত ঘামে উপার্জিত অর্থ। আর এগুলো করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ দায়িত্বশীল সবারই গোচরে।
সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ তুলেছিল যে, ১১ লাখ গাড়ি হতে প্রতিদিন ১১ কোটি টাকা (বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা) অবৈধ চাঁদাবাজি করা হয়। তাদের পর্যবেক্ষণে, নেতৃস্থানীয় মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের যোগসাজশে এটি করা হয়। তথ্যমতে, মালিক ও শ্রমিকদের মোট ৯৩২টি সংগঠন আছেÑ যার ৬৮২টিই অনিবন্ধিত। এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ নিবন্ধনসহ নানা সেবা প্রদানের মধ্য দিয়ে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ঘুষ দুর্নীতি করে। এ সেক্টরকে ঘিরে এরকম বহু ঘৃণ্য তথা অপ্রীতিকর উদাহরণ আছে যা এই স্বল্প পরিসরে বলে শেষ করা যাবে না। এমনকি এ সেক্টরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহু সদস্যেরও প্রকাশ্যে চাঁদাবজি করার রেওয়াজ আছে।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মালিক-শ্রমিক-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা সদস্য এই চার চক্রের পারস্পরিক যোগসাজশে সৃষ্ট সিন্ডিকেটই হলো গণ ও পণ্য পরিবহন খাতের এমন ভয়ংকর অরাজকতার ক্রিড়ানক। এই সিন্ডিকেটের কোপানলে পরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্মম নিষ্পেষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একটু গভীরে গেলে দেখা যাবে যে নষ্ট রাজনীতিই হলো এ হেন সিন্ডিকেটের প্রভাবক। সরকার দলীয় তথা ক্ষমতাসীন একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকরাই নেপথ্যের অনুঘটক ও নিয়ন্ত্রক। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত নেতৃত্বের পর্যায়ক্রম অনুসারে তারা অঞ্চল ভাগ করে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনাই এদের কাছে জিম্মি। এদের শেকড় বেশ গভীরে গ্রথিত! ফলে এত আলোচনা, সমালোচনা, লেখালেখির পরেও এ দুরাবস্থার আজো কোনো উন্নতি ঘটেনি। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষও একপ্রকার হতাশ হয়ে নিজেদের এদের নিষ্পেষণের মাঝে সঁপে দিয়েছে।
এই সিন্ডিকেটের কারণেই বর্তমান সরকারের অনেক ঈর্ষণীয় সাফল্য গণমনে ম্লান হতে চলেছে। কেন সরকারের মতো এমন বিশাল রাষ্ট্রযন্ত্র স্বার্থন্বেষী এই ঘৃণ্য চক্রের কারণে বিতর্কিত হবে? তাই জাতীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থেই এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও অস্তিত্ব অচিরেই ধ্বংস করে দেয়া উচিত। এতে বাঁচবে সাধারণ মানুষ, স্বস্তিতে থাকবে দেশ। তা না হলে বিপন্ন হবে রাজনীতির সৃজনশীল ধারা যার খেসারত সবাইকেই ভোগ করতে হবে।
[লেখক : প্রাবন্ধিক]
মাসুদুর রহমান
ঈদযাত্রায় গণপরিবহনে নৈরাজ্য চরম আকার ধারণ করে
রোববার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
গণপরিবহন যে কোনো দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা। কেননা, সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা সরাসরি এটার সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি দেশের গণপরিষেবার চিত্র অধিক ফুটে ওঠে এটার মাধ্যমেই। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এই চিত্রটা যথেষ্ট হতাশার! আমাদের দেশের তাবৎ পরিবহন সেক্টরের সর্বাধিক সমালোচিত কোনো খাতের নাম যদি উচ্চারিত হয় তবে একবাক্যে এই গণপরিবহনের কথাই উঠে আসে। যাত্রী হয়রানি, অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া, ট্রাফিক বিধি অবজ্ঞা, ঝুঁকিপূর্ণ চালনা ইত্যাদি বিচিত্র অভিযোগে জর্জরিত এই পরিবহন খাতটি।
সারা বছরই সাধারণ মানুষ গণপরিবহনের দ্বারা এসব অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হয়। বিধি অনুযায়ী বড় বাসে সর্বোচ্চ আসন থাকবে ৫২টি। ছোট বাসে থাকবে ৩০টি। ডাবল সিটে পারস্পরিক দূরত্ব থাকবে ২৬ ইঞ্চি। কিন্তু অধিকাংশ পরিবহন, বিশেষ করে লোকাল পরিবহন, এ বিধির তোয়াক্কা করে না। সেখানে ডাবল সিটগুলোতে দুজন বসা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। দ-ায়মান যাত্রীর বিধান না থাকলেও নির্ধারিত আসনের বাইরে তা নেয়া হচ্ছে। এমনকি গাড়ির ইঞ্জিন কভারের ওপর বসিয়েও যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এসব করা হচ্ছে অধিক মুনাফার লোভে।
আর সড়কের নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা তো বলাই বাহুল্য। প্রতি বছর শত শত যাত্রী সড়কে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। পঙ্গুত্ব বরণ করছে অসংখ্য। ২০১৮ সালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে গণপরিবহনের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যুকে ঘিরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ফুঁসে ওঠে। পরবর্তীতে তা গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়। প্রণীত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়কে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শাস্তিস্বরূপ ১ মাসের কারাদ- বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের প্রবিধান রাখা হয়েছে। ওই আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ মর্মে মহামান্য উচ্চ আদালত রুল জারি করেছে।
কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রতিপালিত হয় না। বিশেষ করে ঈদ যাত্রায় গণপরিবহনে নৈরাজ্য চরমে ওঠে! ঈদে ঘরমুখো মানুষের আবেগকে পুঁজি করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে এ দৃশ্য ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ কখনো এর চেয়েও অধিক আদায় করা হয়। নিরূপায় হয়ে এই সিন্ডিকেটের কোপানলে অসংখ্য যাত্রী আর্থিক বলিদানের শিকার হয়।
প্রতি বছরই ঈদের আগে সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগ ভাড়া বাড়ানোর ওপর বিধিনিষেধ ঘোষণা করার পরেও তা এরা থোরায় তোয়াক্কা করে চলেছে। এমনকি স্থান বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত তদারকি করলেও আদালতকেও হুমকির মুখে পড়তে দেখা যায়। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গাবতলি থেকে মানিকগঞ্জগামী একটি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাস কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করেন। পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত শ্রমিক নেতাদের আসকারায় পরিবহন শ্রমিকদের সৃষ্ট অশালীন পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট স্থান ত্যাগ করেন।
যাত্রীরা ম্যাজিস্ট্রেটকে অভিযোগ করায় পরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাস থেকে সব যাত্রী নামিয়ে দেয়। যাত্রীরাও অসহায়ের মতো তখন চরম ভোগান্তির শিকার হন। এটি আদালত অবমাননার সামিল বটে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করা যায়নি। প্রতি ঈদে শুধু ঢাকা শহর ছাড়তেই কয়েকশ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়ার নামে লোপাট করা হয়। এর প্রায় পুরোটাই নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শ্রমিক ও দিনমজুরের মতো খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত ঘামে উপার্জিত অর্থ। আর এগুলো করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ দায়িত্বশীল সবারই গোচরে।
সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ তুলেছিল যে, ১১ লাখ গাড়ি হতে প্রতিদিন ১১ কোটি টাকা (বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা) অবৈধ চাঁদাবাজি করা হয়। তাদের পর্যবেক্ষণে, নেতৃস্থানীয় মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের যোগসাজশে এটি করা হয়। তথ্যমতে, মালিক ও শ্রমিকদের মোট ৯৩২টি সংগঠন আছেÑ যার ৬৮২টিই অনিবন্ধিত। এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ নিবন্ধনসহ নানা সেবা প্রদানের মধ্য দিয়ে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ঘুষ দুর্নীতি করে। এ সেক্টরকে ঘিরে এরকম বহু ঘৃণ্য তথা অপ্রীতিকর উদাহরণ আছে যা এই স্বল্প পরিসরে বলে শেষ করা যাবে না। এমনকি এ সেক্টরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহু সদস্যেরও প্রকাশ্যে চাঁদাবজি করার রেওয়াজ আছে।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মালিক-শ্রমিক-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা সদস্য এই চার চক্রের পারস্পরিক যোগসাজশে সৃষ্ট সিন্ডিকেটই হলো গণ ও পণ্য পরিবহন খাতের এমন ভয়ংকর অরাজকতার ক্রিড়ানক। এই সিন্ডিকেটের কোপানলে পরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্মম নিষ্পেষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একটু গভীরে গেলে দেখা যাবে যে নষ্ট রাজনীতিই হলো এ হেন সিন্ডিকেটের প্রভাবক। সরকার দলীয় তথা ক্ষমতাসীন একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকরাই নেপথ্যের অনুঘটক ও নিয়ন্ত্রক। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত নেতৃত্বের পর্যায়ক্রম অনুসারে তারা অঞ্চল ভাগ করে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনাই এদের কাছে জিম্মি। এদের শেকড় বেশ গভীরে গ্রথিত! ফলে এত আলোচনা, সমালোচনা, লেখালেখির পরেও এ দুরাবস্থার আজো কোনো উন্নতি ঘটেনি। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষও একপ্রকার হতাশ হয়ে নিজেদের এদের নিষ্পেষণের মাঝে সঁপে দিয়েছে।
এই সিন্ডিকেটের কারণেই বর্তমান সরকারের অনেক ঈর্ষণীয় সাফল্য গণমনে ম্লান হতে চলেছে। কেন সরকারের মতো এমন বিশাল রাষ্ট্রযন্ত্র স্বার্থন্বেষী এই ঘৃণ্য চক্রের কারণে বিতর্কিত হবে? তাই জাতীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থেই এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও অস্তিত্ব অচিরেই ধ্বংস করে দেয়া উচিত। এতে বাঁচবে সাধারণ মানুষ, স্বস্তিতে থাকবে দেশ। তা না হলে বিপন্ন হবে রাজনীতির সৃজনশীল ধারা যার খেসারত সবাইকেই ভোগ করতে হবে।
[লেখক : প্রাবন্ধিক]