alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

অলিম্পিক পদক কি অধরাই থাকবে?

মাসুম বিল্লাহ

: রোববার, ২৮ জুলাই ২০২৪

অলিম্পিককে বলা হয় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। পৃথিবী বিখ্যাত সব অ্যাথলেটদের পসরা বসে যে আসরে সেই আসরেই আমরা প্রতি বছর কেবল অংশ নিতে যাই। আমাদের দেশের সেরা ক্রীড়াবিদ কে? হয়তো তর্ক ব্যতিরেকে অনেকেই বলবেন সাকিব আল হাসান! ক্রিকেট মাঠে এক বিদেশি ধারাভাষ্যকার খুব বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমাদের দেশে একজন ক্রিকেটার যদি সেরা ক্রীড়াবিদ হয় তবে কি তোমাদের দেশে অলিম্পিকে পদক জেতা কেউ নেই? অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে অলিম্পিকে পদক জেতা তো দূরের কথা পদক জয়ের মতো সম্ভাবনাও আমরা কখনও তৈরি করতে পারিনি। তাই অলিম্পিকের পদক না জেতা যে গুটিকয়েক দেশ আছে পৃথিবীতে, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। অলিম্পিকে পদক জেতা কেবল একটি পুরস্কারই নয়, এটা দেশের জন্য বয়ে আনে এক গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত। তবে আমরা এখনও সেই গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারিনি।

শুরু হয়েছে অলিম্পিকের আরও একটি আসর, এবারের আসরটি বসেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। গত অলিম্পিক ২০২০ সালে হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে জাপানের রাজধানী টোকিওতে ২১ সালের জুলাই শুরু হয় বিশ্বের জনপ্রিয় এই গেমসের আসর। বাংলাদেশের হয়ে গতবার বিভিন্ন ইভেন্টে ছয়জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। যাদের মধ্যে আর্চারিতে রোমান সানাকে নিয়ে কিছুটা পদকজয়ের সম্ভাবনা দেখছিলেন অনেকে। অবশ্য বিশ্ব আর্চারি প্রতিযোগিতায় ২০১৯ এ তিনি পুরুষ একক ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে পদক লাভ করেছিলেন। এতে করে তাকে নিয়ে তৈরি হয় অলিম্পিক পদক জয়ের স্বপ্ন।

তবে গত অলিম্পিকে রাউন্ড অব সিক্সিটিনে তার বাদ পড়ে যাওয়া ও অন্য আর্চার দিয়া সিদ্দীকির বাদ পগে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টোকিও অলিম্পিকেও পদক জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। আর তাই প্রতিবারের মতো গত অলিম্পকেও শূন্য হাতে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। অলিম্পিকের এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন পাঁচজন ক্রীড়াবিদ। এর মধ্যে আর্চার সাগর ইসলাম গেমসে সরাসরি খেলোর যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বাকিরা পেয়েছেন আইওসির ওয়াইল্ডকার্ড। এদের মধ্যে সাগর ইসলাম, আর্চারি (রিকার্ভ একক), ইমরানুর রহমান, অ্যাথলেটিক (১০০ মিটার), রবিউল ইসলাম, শুটিং (১০ মিটার এয়ার রাইফেল), সামিউল ইসলাম রাফি, সাঁতার (১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল), সোনিয়া খাতুন, সাঁতার (৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল) ইভেন্টে অংশ নেবেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে বরাবরের মতো এবারো পদক জয়ের থেকে নিজ নিজ ইভেন্টে ভালো করাই যেন অ্যাথলেটদের মূল লক্ষ্য।

একসময় স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল দেশসেরা শুটার আসিফ হোসেনকে নিয়েও। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় অভিনব বিন্দ্রাকে হারিয়ে স্বর্ণ জয় ছিল দেশসেরা এই শুটারের সর্বোচ্চ কীর্তি। ২০০২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জেতেন আসিফ, আর সেই কমনওয়েলথে রৌপ্য জেতা ভারতীয় শুটার অভিনব বিন্দ্রা পরবর্তিতে ভারতের হয়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতেন! আর আক্ষেপের সুর যেন তখন আরও বাড়তে থাকে বাংলাদেশের। প্রশ্ন ওঠে কমনওয়েলথে রৌপ্যজয়ী বিন্দ্রা যদি অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতাতে পারেন তবে সেই কমনওয়েলথে স্বর্ণ জেতা আসিফকে কেন সেভাবে তৈরি করা গেল না?

সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল দেশসেরা আরেক শুটার আব্দুুল্লাহ হেল বাকীকে নিয়েও। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কমনওয়েলথের ২০তম আসরের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্য জিতেছিলেন বাংলাদেশের এই শুটার। ২০১৮ সালে গোল্ডকোস্টে কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্য জিতেছিলেন বাকী। পুরুষ বিভাগে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রিও অলিম্পিকে ২৫তম হওয়া আব্দুল্লাহ হেল বাকী গতবারে এ ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন।

অলিম্পিক পদক জিততে সবথেকে বেশি প্রয়োজন সেই স্বপ্নটা দেখা। আর পাশাপাশি দরকার অ্যাথলেটদের আর্থিক ও মানসিক সমর্থন। আমাদের দেশে ক্রিকেট সবথেকে জনপ্রিয় খেলা। তবে অন্য গেমগুলোতে খুব বেশি স্পন্সর পাওয়া যায় না। অলিম্পিকে অংশ নেয়া দেশের অনেক অ্যাথলেটের কথায় স্পষ্ট যে পদক জেতার জন্য যেরকম অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা দরকার তা আমাদের দেশে নেই। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে আসে তবে অন্তত কিছু কিছু ইভেন্টে পদক জেতার ব্যাপারে স্বপ্ন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আর্চারি কিংবা শুটিংয়ের মতো ইভেন্টে বাংলাদেশের পদক জেতা সম্ভব। অন্য ইভেন্টগুলোতে এই মুহূর্তে পদক জয়ের সম্ভবনা তুলনামূলক অনেক ক্ষীণ। তাই নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আগাতে পারলে, পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি পর্যাপ্ত সহযোগিতা থাকলে এবং নিবিড় প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে পারলে অবশ্যই পদক জেতার মতো বিশ্বমানের আর্চার কিংবা শুটার তৈরি করা সম্ভব।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গেমস সামনে আসলেই কেবল ফেডারেশনগুলোর তৎপরতা বেড়ে যায়। আর গেমস শুরুর কয়েক মাস আগ থেকে শুরু হয় প্রস্তুতি। সেক্ষেত্রে আশানুরূপ ফলাফল আশা করা কঠিন। বিশেষ করে অলিম্পিকের মতো আসরের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতির বিকল্প নেই। আর্থিক সমস্যার কারণে বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণেরও সুযোগ হয় না অনেক সময়। অনেক ক্রীড়া সংগঠক ফেডারেশন ও ক্রীড়া পরিষদের সমন্বয়হীনতাকেও দায়ী করেন। অলিম্পিকের পদক জয়কে বাস্তবে রূপ দিতে এখন থেকেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আগাতে হবে। ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে ক্রীড়া পরিষদের সমন্বয়হীনতা কমিয়ে আনতে হবে।

সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোর আর্থিক সহায়তা বাড়াতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসতে পারে, বিদেশি হাই-প্রোফাইল কোচদের অধীনে নিরবচ্ছিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা খুব জরুরি। মাত্র ৬৩ হাজার জনসংখ্যার দেশ বারমুডা যদি টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতে নিজের দেশবাসীকে গর্বিত করতে পারে তবে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে বাংলাদেশ কেনো পারবে না? হয়তো ভৌগলিক কারণে এ অঞ্চলের মানুষ অ্যাথলিটকসে তেমন সুবিধা করতে পারে না, কিন্তু তাই বলে কি কোনো ইভেন্টেই আমাদের পদক আসার মতো সম্ভবনা নেই? আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল জিতে গর্বিত করুক কোনো অ্যাথলেট আর পেছনে বাজুক ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

[লেখক : ব্যাংকার]

ব্যালট থেকে বাস্তবতায় বিএনপি

ছবি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: একুশের ইতিহাস, বিশ্বস্বীকৃতি ও আমাদের দায়িত্ব

ফুলের নিচে চাপা পড়া ভাষার আর্তনাদ

নতুন সরকারের কাছে পার্বত্যবাসীর প্রত্যাশা

ছবি

আন্দ্রে বেতেই : মানবিক সমাজবোধের অনন্য উত্তরাধিকারী

‘নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস’

মহাকাশ অর্থনীতি

কুষ্ঠ : নতুন সরকার ও একটি জাতীয় বিষয়ে প্রত্যাশা

বাংলাদেশের খাদ্যশিল্প

ভাষার রাজনীতি এবং রাজনীতির ভাষা

ছবি

দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী

ছবি

মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষায় সমতা নিশ্চিতের আহ্বান

কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন

ছবি

নির্বাচনে জোট, নাকি সরকারে

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার

মানুষ কি বদলেছে, নাকি শুধু রং বদলিয়েছে?

সময় জীবনে চলার পথ দেখিয়ে দেয়

কালো ও সবুজ চা : জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

বাঙালিরা ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়

অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে কী দিল

ভালোবাসা, সচেতনতা ও জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা

ভালোবাসার দিনে সুন্দরবন: উদযাপনের আড়ালে অস্তিত্বের সংকট

ছবি

তিরাশির সেই দিন

অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নতুন সরকারকে

সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: সম্ভাবনা, সংকট ও করণীয়

গণতন্ত্র: একটি দার্শনিক জিজ্ঞাসা

‘ভোট দিছি ভাই, ছিল দিছি...’

নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান

ক্ষমতার অক্টোপাস: রাষ্ট্র দখল ও আমজনতার নাভিশ্বাস

কার হাতে উঠবে শাসনের রাজদণ্ড

নির্বাচন ও সাধারণ ভোটারের ‘অসাধারণ’ সামাজিক চাপ

মানুষের মাঝেই স্বর্গ-নরক

মহাকাশের ভূত ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি

নির্বাচনী হাওয়ার ভেতরে করুণ মৃত্যুর সংবাদ

দেশকে বধিবে যে গোকুলে বেড়েছে সে!

দক্ষিণপন্থার রাজনীতি: অগ্রগতি নাকি অবনমন?

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

অলিম্পিক পদক কি অধরাই থাকবে?

মাসুম বিল্লাহ

রোববার, ২৮ জুলাই ২০২৪

অলিম্পিককে বলা হয় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। পৃথিবী বিখ্যাত সব অ্যাথলেটদের পসরা বসে যে আসরে সেই আসরেই আমরা প্রতি বছর কেবল অংশ নিতে যাই। আমাদের দেশের সেরা ক্রীড়াবিদ কে? হয়তো তর্ক ব্যতিরেকে অনেকেই বলবেন সাকিব আল হাসান! ক্রিকেট মাঠে এক বিদেশি ধারাভাষ্যকার খুব বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমাদের দেশে একজন ক্রিকেটার যদি সেরা ক্রীড়াবিদ হয় তবে কি তোমাদের দেশে অলিম্পিকে পদক জেতা কেউ নেই? অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে অলিম্পিকে পদক জেতা তো দূরের কথা পদক জয়ের মতো সম্ভাবনাও আমরা কখনও তৈরি করতে পারিনি। তাই অলিম্পিকের পদক না জেতা যে গুটিকয়েক দেশ আছে পৃথিবীতে, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। অলিম্পিকে পদক জেতা কেবল একটি পুরস্কারই নয়, এটা দেশের জন্য বয়ে আনে এক গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত। তবে আমরা এখনও সেই গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারিনি।

শুরু হয়েছে অলিম্পিকের আরও একটি আসর, এবারের আসরটি বসেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। গত অলিম্পিক ২০২০ সালে হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে জাপানের রাজধানী টোকিওতে ২১ সালের জুলাই শুরু হয় বিশ্বের জনপ্রিয় এই গেমসের আসর। বাংলাদেশের হয়ে গতবার বিভিন্ন ইভেন্টে ছয়জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। যাদের মধ্যে আর্চারিতে রোমান সানাকে নিয়ে কিছুটা পদকজয়ের সম্ভাবনা দেখছিলেন অনেকে। অবশ্য বিশ্ব আর্চারি প্রতিযোগিতায় ২০১৯ এ তিনি পুরুষ একক ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে পদক লাভ করেছিলেন। এতে করে তাকে নিয়ে তৈরি হয় অলিম্পিক পদক জয়ের স্বপ্ন।

তবে গত অলিম্পিকে রাউন্ড অব সিক্সিটিনে তার বাদ পড়ে যাওয়া ও অন্য আর্চার দিয়া সিদ্দীকির বাদ পগে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টোকিও অলিম্পিকেও পদক জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। আর তাই প্রতিবারের মতো গত অলিম্পকেও শূন্য হাতে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। অলিম্পিকের এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন পাঁচজন ক্রীড়াবিদ। এর মধ্যে আর্চার সাগর ইসলাম গেমসে সরাসরি খেলোর যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বাকিরা পেয়েছেন আইওসির ওয়াইল্ডকার্ড। এদের মধ্যে সাগর ইসলাম, আর্চারি (রিকার্ভ একক), ইমরানুর রহমান, অ্যাথলেটিক (১০০ মিটার), রবিউল ইসলাম, শুটিং (১০ মিটার এয়ার রাইফেল), সামিউল ইসলাম রাফি, সাঁতার (১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল), সোনিয়া খাতুন, সাঁতার (৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল) ইভেন্টে অংশ নেবেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে বরাবরের মতো এবারো পদক জয়ের থেকে নিজ নিজ ইভেন্টে ভালো করাই যেন অ্যাথলেটদের মূল লক্ষ্য।

একসময় স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল দেশসেরা শুটার আসিফ হোসেনকে নিয়েও। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় অভিনব বিন্দ্রাকে হারিয়ে স্বর্ণ জয় ছিল দেশসেরা এই শুটারের সর্বোচ্চ কীর্তি। ২০০২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জেতেন আসিফ, আর সেই কমনওয়েলথে রৌপ্য জেতা ভারতীয় শুটার অভিনব বিন্দ্রা পরবর্তিতে ভারতের হয়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতেন! আর আক্ষেপের সুর যেন তখন আরও বাড়তে থাকে বাংলাদেশের। প্রশ্ন ওঠে কমনওয়েলথে রৌপ্যজয়ী বিন্দ্রা যদি অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতাতে পারেন তবে সেই কমনওয়েলথে স্বর্ণ জেতা আসিফকে কেন সেভাবে তৈরি করা গেল না?

সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল দেশসেরা আরেক শুটার আব্দুুল্লাহ হেল বাকীকে নিয়েও। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কমনওয়েলথের ২০তম আসরের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্য জিতেছিলেন বাংলাদেশের এই শুটার। ২০১৮ সালে গোল্ডকোস্টে কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্য জিতেছিলেন বাকী। পুরুষ বিভাগে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রিও অলিম্পিকে ২৫তম হওয়া আব্দুল্লাহ হেল বাকী গতবারে এ ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন।

অলিম্পিক পদক জিততে সবথেকে বেশি প্রয়োজন সেই স্বপ্নটা দেখা। আর পাশাপাশি দরকার অ্যাথলেটদের আর্থিক ও মানসিক সমর্থন। আমাদের দেশে ক্রিকেট সবথেকে জনপ্রিয় খেলা। তবে অন্য গেমগুলোতে খুব বেশি স্পন্সর পাওয়া যায় না। অলিম্পিকে অংশ নেয়া দেশের অনেক অ্যাথলেটের কথায় স্পষ্ট যে পদক জেতার জন্য যেরকম অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা দরকার তা আমাদের দেশে নেই। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে আসে তবে অন্তত কিছু কিছু ইভেন্টে পদক জেতার ব্যাপারে স্বপ্ন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আর্চারি কিংবা শুটিংয়ের মতো ইভেন্টে বাংলাদেশের পদক জেতা সম্ভব। অন্য ইভেন্টগুলোতে এই মুহূর্তে পদক জয়ের সম্ভবনা তুলনামূলক অনেক ক্ষীণ। তাই নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আগাতে পারলে, পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি পর্যাপ্ত সহযোগিতা থাকলে এবং নিবিড় প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে পারলে অবশ্যই পদক জেতার মতো বিশ্বমানের আর্চার কিংবা শুটার তৈরি করা সম্ভব।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গেমস সামনে আসলেই কেবল ফেডারেশনগুলোর তৎপরতা বেড়ে যায়। আর গেমস শুরুর কয়েক মাস আগ থেকে শুরু হয় প্রস্তুতি। সেক্ষেত্রে আশানুরূপ ফলাফল আশা করা কঠিন। বিশেষ করে অলিম্পিকের মতো আসরের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতির বিকল্প নেই। আর্থিক সমস্যার কারণে বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণেরও সুযোগ হয় না অনেক সময়। অনেক ক্রীড়া সংগঠক ফেডারেশন ও ক্রীড়া পরিষদের সমন্বয়হীনতাকেও দায়ী করেন। অলিম্পিকের পদক জয়কে বাস্তবে রূপ দিতে এখন থেকেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আগাতে হবে। ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে ক্রীড়া পরিষদের সমন্বয়হীনতা কমিয়ে আনতে হবে।

সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোর আর্থিক সহায়তা বাড়াতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসতে পারে, বিদেশি হাই-প্রোফাইল কোচদের অধীনে নিরবচ্ছিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা খুব জরুরি। মাত্র ৬৩ হাজার জনসংখ্যার দেশ বারমুডা যদি টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতে নিজের দেশবাসীকে গর্বিত করতে পারে তবে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে বাংলাদেশ কেনো পারবে না? হয়তো ভৌগলিক কারণে এ অঞ্চলের মানুষ অ্যাথলিটকসে তেমন সুবিধা করতে পারে না, কিন্তু তাই বলে কি কোনো ইভেন্টেই আমাদের পদক আসার মতো সম্ভবনা নেই? আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল জিতে গর্বিত করুক কোনো অ্যাথলেট আর পেছনে বাজুক ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

[লেখক : ব্যাংকার]

back to top