alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

বাঁশের বংশবৃদ্ধিতে অন্তরায় বাঁশকরুল সংগ্রহ

শতদল বড়ুয়া

: সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচার তাগিদে মানুষ অহোরাত্র পরিশ্রম করছে। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছে না এমন মানুষের সংখ্যাও নেয়হায়েত কম নয়। নিজের অর্জন বা যোগ্যতাকে বিসর্জন দিয়ে পরিশ্রম করে যা পারিশ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে ডাল-ভাত জোগাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে। যারা অশিক্ষিত, হাতের কোনো কাজ জানে না, শুধু গতরে খাটতে পারে তাদেরই একজন সুশীল চাকমা তার সঙ্গে কথা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাইসছড়ি বাজারে। সুশীল বলল, কয়েকদিন যাবৎ বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের ভেতরে যেতে পারিনি। আজ গিয়ে এই বাঁশকরুলগুলো সংগ্রহ করেছি।

মাইসছড়ি বাজারে মৌসুমি সবকিছু পাওয়া যায়। বর্ষাকালে বাঁশকরুল অন্যতম সবার প্রিয় খাদ্য। সুশীল চাকমা থেকে বাঁশকরুল কিনেছি কয়েক কেজি। তাকে বললাম, তুমি তো অনেক বাঁশ নষ্ট করে দিয়েছ। বাঁশগুলো বড় হলে সবার কাজে লাগত। সুশীল বলল, না বাবুজি আমি চিনি কোনটা বাঁশ হবে, কোনটা হবে না। যেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে আমি সেগুলো কেটেছি। এগুলো সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঁশকরুল বিক্রি করতে দেখা যায়। মূল্য তেমন সহনীয় পর্যায়ে নেই। যার থেকে যেভাবে পারছে দাম নিচ্ছে বিক্রেতা। এটি অত্যন্ত মুখরোচক খাবার। নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। পাটশাকের (নারিচশাক) সঙ্গে বাঁশকরুল ইছা শুটকি দিয়ে রান্না করলে মার মার অবস্থা হয়। যদি এতে কাঁঠাল বিচি দেয়া যায় তা হলে তো কথাই নেই।

মাংসের সঙ্গে বাঁশকরুল আরেক মজার খানা। ইছা মাছ বা শিমের দানার সংমিশ্রণে বাঁশকরুলের কোনো জুড়ি নেই। সুস্বাদু এই বাঁশকরুল দেখলে অনেকে লোভ সামলাতে পারে না। আমরা যদিওবা মনের আনন্দে এই মৌসুমি বাঁশকরুল খাচ্ছি, এর পরিণতির কথা আমরা কেউ ভাবছি না। বাঁশকরুল সংগ্রহকারীরা জানে না তারা প্রকৃতির কী সর্বনাশ করছে। তাদের অবশ্য জানার কথাও নয়। উল্লিখিত সুশীল বলেছে সে চিনে কোনটা বাঁশ হবে, কোনটা হবে না। তারা তো অসহায়, তাদের দায়ীও করা যাচ্ছে না।

সবুজ বনানী আমরা নির্বিচারে ধ্বংস করছি। বনের নির্দিষ্ট জায়গায় বাঁশ ঝাড় রয়েছে। বিভিন্ন জাতের বাঁশ দেখা যায়। গভীর বনানী থেকে যারা এগুলো সংগ্রহ করে তারা সবকিছু জানে। বাঁশ ঝাড়ের ভেতরে বাঁশকরুল তথা বাঁশের চারা গজায়। এটিকে অঞ্চলভেদে বাঁশের ড্যামও বলে। প্রাথমিক অবস্থায় বাঁশকরুলে বিশেষ আবরণ থাকে। এ আবরণ বাঁশের চারা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশে রূপান্তরিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় বাঁশকরুলে হাত লাগলে চুলকায়। এই চুলকানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সংগ্রহকারীরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে।

বাঁশের বংশবৃদ্ধিতে প্রধান অন্তরায় হলোÑ বাঁশকরুল সংগ্রহ। মোদ্দা কথায় বাঁশকরুল মানে বাঁশের উৎপত্তিতে এর গোড়া। অপ্রিয় সত্য কথা হলো বাঁশের ধ্বংসলীলা বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা বর্তমানে তেমন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

এশিয়ার বিখ্যাত কাগজকল হলো চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিল। এ মিলের প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশ। কর্ণফুলী পেপার মিল পরিদর্শনে গিয়েছি আমরা কয়েকজন সপরিবারে। পেপার মিল ঘুরে দেখতে দেখতে চলে গেলাম যেই পথ দিয়ে মিলে বাঁশ আসে সেখানে। অদ্ভুত এক পদ্ধতি। যা না দেখলে লিখে কাউকে বোঝানো যাবে না। একপ্রকার চেইন আছে। সেই চেইনে বাঁশ তুলে দিচ্ছে। বাঁশ যথাস্থানে গিয়ে মেশিনের সাহায্যে প্রক্রিয়া হয়ে সর্বশেষ প্রান্তে তৈরি হচ্ছে ‘ম-’। এই ম- থেকেই কাগজের জন্ম।

একটি ঘটনা লোকমুখে একাধিকবার শুনেছি। বাস্তবতা কতটুকু এখনো জানি না। বাঁশের চালার সঙ্গে অসতর্কতা কারণে এক লোক চলে গিয়েছিল মেশিনের ভেতরে। লোকটার নাকি কোনো নিশানা পাওয়া যায়নি একমাত্র হাতের নখ ও দুয়েকটা চুল ছাড়া।

কাগজ প্রস্তুতের পেছনে অবশ্য আরো কারিজুড়ি থাকতে পারে। শুধু বাঁশ দিয়ে তো কাগজ তৈরি হবে না। নানা কেমিক্যালের সমন্বয়ে প্রধান উপাদান বাঁশ কাগজে রূপান্তর হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁশের বংশবৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা না গেলে পেপার মিলে বাঁশ সরবরাহ দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল অভিমত প্রকাশ করেছেন।

বাঁশকরুল সংগ্রহে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপরে বন বিভাগের হয়তো সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় সবুজের সমারোহ দীর্ঘস্থায়ীত্বে রূপ লাভ করতে পারছে না। একটা বাঁশকরুল কাটা মানে পুরো একটা আস্ত বাঁশের সলিল সমাধি ঘটিয়ে দেয়া। জন্মকালে এভাবে আঁতুড় ঘরে বাঁশ মারা পড়লে বাঁশের অস্তিত্ব বিপন্নের দ্রুত এগিয়ে যাবে।

কর্ণফুলী পেপার মিলে বাঁশ সরবরাহে সংকটের নানা খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বাঁশের বিকল্প ব্যবস্থা করা না গেলে সংকট বাড়বে বৈ কমবে না। হয়তোবা বাঁশের বিকল্প ব্যবস্থা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। তারপরও বাঁশ ধ্বংসকারীদের এপথ থেকে বিরত রাখা না গেলে বাঁশের বংশবৃদ্ধি প্রশ্নবোধক হয়ে থাকবে।

একবার বাধা বা এক দিনে কোনো সফলত আসবে না। শুধু বাঁশকরুল কেন? মৌসুমি সবকিছুর ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে একদিন এর সুফল আমরা পাব। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগের কথা জানা যাচ্ছে না। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সক্রিয় হলে সাধারণ জনগণও প্রয়োজনীয় সাহায্য- সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।

বাঁশকরুল ধ্বংসের ক্ষতির দিকটা সংগ্রহকারীদের বুঝাতে হবে। এজন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। আসল ঘটনাটা একবার বোঝানো গেলে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে খবরাখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঁশের বংশবৃদ্ধি হবে এবং প্রয়োজনীয় বাঁশ পেপার মিলে সরবরাহ করা যাবে।

[লেখক : প্রাবন্ধিক]

নারীর অধিকার নিশ্চিত হলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব

কৃষিঋণ মওকুফ: কৃষকের স্বস্তি, বাস্তবায়নে দরকার সুশাসন

‘কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস!’

ইরানে হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও পরিণতি

ঈদবাজারে ভোক্তার অসহায়ত্ব

নবযাত্রায় কেমন বাংলাদেশ চাই

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

বড় চ্যালেঞ্জ হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা

নতুন গভর্নর অপরিহার্য ছিল

উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের বিবাহের রীতি ও প্রথা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদ: বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কী?

না হয় রহিতে কাছে!

আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ভূমি কমিশন কেন জরুরি?

উৎসবে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র

জোর যার, মুল্লুক তার: সাম্রাজ্যের নতুন পোশাক

‘পানিয়ালীর পোলার বইমেলা’

আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট

নিঃশব্দ আর্তনাদ শোনার সময় এখনই

ইরান ইস্যুতে মহাশক্তির পরীক্ষা

ক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও জনআস্থা: রাজনীতির নতুন পরীক্ষা

এলডিসি থেকে উত্তরণে কেন এত সংশয়

আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট

প্রসঙ্গ: পরশ্রীকাতরতা ও আমিত্ব

চাঁদাবাজি কি ‘সমঝোতা’?

গ্রেপ্তার করতে হলে তো দু’জনকেই করতে হবে!

উড়াল দিচ্ছি চাঁদে

আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অস্বস্তি

নেশার কবলে গ্রামবাংলা

পুরনো সঞ্চয় নিয়ে ফিরে ফিরে শুধু বেচাকেনা আর চলিবে না!

ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি

ক্ষমতার ছায়া ও সমাজের আয়না

বই মেলার বোল কুমড়া

প্রসঙ্গ: খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল

নতুন সরকারের কঠিন সমীকরণ

ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

বাঁশের বংশবৃদ্ধিতে অন্তরায় বাঁশকরুল সংগ্রহ

শতদল বড়ুয়া

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচার তাগিদে মানুষ অহোরাত্র পরিশ্রম করছে। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছে না এমন মানুষের সংখ্যাও নেয়হায়েত কম নয়। নিজের অর্জন বা যোগ্যতাকে বিসর্জন দিয়ে পরিশ্রম করে যা পারিশ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে ডাল-ভাত জোগাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককে। যারা অশিক্ষিত, হাতের কোনো কাজ জানে না, শুধু গতরে খাটতে পারে তাদেরই একজন সুশীল চাকমা তার সঙ্গে কথা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাইসছড়ি বাজারে। সুশীল বলল, কয়েকদিন যাবৎ বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের ভেতরে যেতে পারিনি। আজ গিয়ে এই বাঁশকরুলগুলো সংগ্রহ করেছি।

মাইসছড়ি বাজারে মৌসুমি সবকিছু পাওয়া যায়। বর্ষাকালে বাঁশকরুল অন্যতম সবার প্রিয় খাদ্য। সুশীল চাকমা থেকে বাঁশকরুল কিনেছি কয়েক কেজি। তাকে বললাম, তুমি তো অনেক বাঁশ নষ্ট করে দিয়েছ। বাঁশগুলো বড় হলে সবার কাজে লাগত। সুশীল বলল, না বাবুজি আমি চিনি কোনটা বাঁশ হবে, কোনটা হবে না। যেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে আমি সেগুলো কেটেছি। এগুলো সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঁশকরুল বিক্রি করতে দেখা যায়। মূল্য তেমন সহনীয় পর্যায়ে নেই। যার থেকে যেভাবে পারছে দাম নিচ্ছে বিক্রেতা। এটি অত্যন্ত মুখরোচক খাবার। নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। পাটশাকের (নারিচশাক) সঙ্গে বাঁশকরুল ইছা শুটকি দিয়ে রান্না করলে মার মার অবস্থা হয়। যদি এতে কাঁঠাল বিচি দেয়া যায় তা হলে তো কথাই নেই।

মাংসের সঙ্গে বাঁশকরুল আরেক মজার খানা। ইছা মাছ বা শিমের দানার সংমিশ্রণে বাঁশকরুলের কোনো জুড়ি নেই। সুস্বাদু এই বাঁশকরুল দেখলে অনেকে লোভ সামলাতে পারে না। আমরা যদিওবা মনের আনন্দে এই মৌসুমি বাঁশকরুল খাচ্ছি, এর পরিণতির কথা আমরা কেউ ভাবছি না। বাঁশকরুল সংগ্রহকারীরা জানে না তারা প্রকৃতির কী সর্বনাশ করছে। তাদের অবশ্য জানার কথাও নয়। উল্লিখিত সুশীল বলেছে সে চিনে কোনটা বাঁশ হবে, কোনটা হবে না। তারা তো অসহায়, তাদের দায়ীও করা যাচ্ছে না।

সবুজ বনানী আমরা নির্বিচারে ধ্বংস করছি। বনের নির্দিষ্ট জায়গায় বাঁশ ঝাড় রয়েছে। বিভিন্ন জাতের বাঁশ দেখা যায়। গভীর বনানী থেকে যারা এগুলো সংগ্রহ করে তারা সবকিছু জানে। বাঁশ ঝাড়ের ভেতরে বাঁশকরুল তথা বাঁশের চারা গজায়। এটিকে অঞ্চলভেদে বাঁশের ড্যামও বলে। প্রাথমিক অবস্থায় বাঁশকরুলে বিশেষ আবরণ থাকে। এ আবরণ বাঁশের চারা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশে রূপান্তরিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় বাঁশকরুলে হাত লাগলে চুলকায়। এই চুলকানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সংগ্রহকারীরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে।

বাঁশের বংশবৃদ্ধিতে প্রধান অন্তরায় হলোÑ বাঁশকরুল সংগ্রহ। মোদ্দা কথায় বাঁশকরুল মানে বাঁশের উৎপত্তিতে এর গোড়া। অপ্রিয় সত্য কথা হলো বাঁশের ধ্বংসলীলা বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা বর্তমানে তেমন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

এশিয়ার বিখ্যাত কাগজকল হলো চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিল। এ মিলের প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশ। কর্ণফুলী পেপার মিল পরিদর্শনে গিয়েছি আমরা কয়েকজন সপরিবারে। পেপার মিল ঘুরে দেখতে দেখতে চলে গেলাম যেই পথ দিয়ে মিলে বাঁশ আসে সেখানে। অদ্ভুত এক পদ্ধতি। যা না দেখলে লিখে কাউকে বোঝানো যাবে না। একপ্রকার চেইন আছে। সেই চেইনে বাঁশ তুলে দিচ্ছে। বাঁশ যথাস্থানে গিয়ে মেশিনের সাহায্যে প্রক্রিয়া হয়ে সর্বশেষ প্রান্তে তৈরি হচ্ছে ‘ম-’। এই ম- থেকেই কাগজের জন্ম।

একটি ঘটনা লোকমুখে একাধিকবার শুনেছি। বাস্তবতা কতটুকু এখনো জানি না। বাঁশের চালার সঙ্গে অসতর্কতা কারণে এক লোক চলে গিয়েছিল মেশিনের ভেতরে। লোকটার নাকি কোনো নিশানা পাওয়া যায়নি একমাত্র হাতের নখ ও দুয়েকটা চুল ছাড়া।

কাগজ প্রস্তুতের পেছনে অবশ্য আরো কারিজুড়ি থাকতে পারে। শুধু বাঁশ দিয়ে তো কাগজ তৈরি হবে না। নানা কেমিক্যালের সমন্বয়ে প্রধান উপাদান বাঁশ কাগজে রূপান্তর হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁশের বংশবৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা না গেলে পেপার মিলে বাঁশ সরবরাহ দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল অভিমত প্রকাশ করেছেন।

বাঁশকরুল সংগ্রহে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপরে বন বিভাগের হয়তো সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় সবুজের সমারোহ দীর্ঘস্থায়ীত্বে রূপ লাভ করতে পারছে না। একটা বাঁশকরুল কাটা মানে পুরো একটা আস্ত বাঁশের সলিল সমাধি ঘটিয়ে দেয়া। জন্মকালে এভাবে আঁতুড় ঘরে বাঁশ মারা পড়লে বাঁশের অস্তিত্ব বিপন্নের দ্রুত এগিয়ে যাবে।

কর্ণফুলী পেপার মিলে বাঁশ সরবরাহে সংকটের নানা খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বাঁশের বিকল্প ব্যবস্থা করা না গেলে সংকট বাড়বে বৈ কমবে না। হয়তোবা বাঁশের বিকল্প ব্যবস্থা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। তারপরও বাঁশ ধ্বংসকারীদের এপথ থেকে বিরত রাখা না গেলে বাঁশের বংশবৃদ্ধি প্রশ্নবোধক হয়ে থাকবে।

একবার বাধা বা এক দিনে কোনো সফলত আসবে না। শুধু বাঁশকরুল কেন? মৌসুমি সবকিছুর ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে একদিন এর সুফল আমরা পাব। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগের কথা জানা যাচ্ছে না। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সক্রিয় হলে সাধারণ জনগণও প্রয়োজনীয় সাহায্য- সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।

বাঁশকরুল ধ্বংসের ক্ষতির দিকটা সংগ্রহকারীদের বুঝাতে হবে। এজন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। আসল ঘটনাটা একবার বোঝানো গেলে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে খবরাখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঁশের বংশবৃদ্ধি হবে এবং প্রয়োজনীয় বাঁশ পেপার মিলে সরবরাহ করা যাবে।

[লেখক : প্রাবন্ধিক]

back to top