alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

বাদ, প্রতিবাদ ও সম্বাদ

মোশাররফ হোসেন মুসা

: সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪

বাদ, প্রতিবাদ ও সম্বাদ; যাকে ইংরেজিতে বলে থেসিস, এন্টিথেসিস ও সিনথেসিস। প্রতিটি বস্তুতে অভ্যন্ত রীন দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে এবং তিনটি নিয়মের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে থাকে। মানুষের জীবন প্রণালি নিয়ে যে বিজ্ঞান -তাকে সমাজ বিজ্ঞান বলে। কোনো কোনো মনীষী এটাকে বিজ্ঞান বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন মানুষের জীবনও তিনটি নিয়ম মেনে পরিবর্তিত হয়; তাই এটাও বিজ্ঞান। তবে সম্বাদ তথা সেনথিসিসে আপাতত মীমাংসা হয় (এজন্যই কার্ল মার্কসের বস্তুবাদ, ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ ও শ্রেণী সংগ্রাম তত্ত্বকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায় না)। উদাহরণস্বরূপ- মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ সরকার, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের ব্যর্থতার কারণে ১৫ আগস্ট মর্মান্তি ক হত্যাকা-। ১৫ আগস্টের ঘটনার প্রতিবাদে ৩ নভেম্বর সেনাবিদ্রোহ হয়। ৭ নভেম্বরে আরেকটি সেনাবিদ্রোহে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। আবার ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর কয়েকটি সেনা বিদ্রোহ। ৩০ মে চট্টগ্রামে আরেকটি সেনা বিদ্রোহে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন।

এরশাদ, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা সরকারের আমলের আন্দোলনগুলো ও তার ফলাফলের মধ্যে তিনটি কারণের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে। অন্যদিকে নেতির নেতিকরণের উদাহরণ রয়েছে। যেমন- বীজ থেকে গাছ হয়, গাছ থেকে বীজ হয়- এভাবে সৃষ্টির পৌনঃপুনিকতা রয়েছে। একটি ঘটনা আরেকটি নতুন ঘটনার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে। কোনো ঘটনাই আগের ঘটনা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আদি যুগ থেকে দাস যুগ, দাস যুগ থেকে সামন্ত যুগ, শেষে সামন্ত যুগ থেকে আমরা বর্তমানে পুঁজিবাদী যুগে বসবাস করছি।

পুঁজিবাদও এক সময় পরিবর্তিত হয়ে আরেকটি যুগ নিয়ে আসবে। বর্তমানই শেষ- এটা একটি ভ্রান্ত ধারণা। মানুষ যেহেতু বুদ্ধিজীবী প্রাণী তথা রাজনৈতিক জীব, সে কারণে তারা চেষ্টা করলে পরিবর্তনগুলো পৃথিবীর কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অতীব দুঃখের বিষয় রাজনীতিবিদরা সেদিকে মনোনিবেশ দেন না। উদাহরণস্বরূপ- ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পরিবার, শেখ মনির পরিবার, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারে মোট ২৬ জন খুন হন। এ তিন পরিবারের মধ্য থেকে ১৭ জন এমপি হয়েছিলেন এবং নিকটতম আত্মীয়ের মধ্য থেকে শতাধিক ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাদের পরিবারের কেউ কি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছেন?

সামরিক বাহিনীর অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। তারাও কি শিক্ষা নিয়েছেন? বস্তুজগত গতিশীল। এটা তারা স্বীকার করেন না। তারা পুরাতন ঘটনাতে আবর্তিত হতে থাকেন। হয়ত এটাই মনুষ্য জগতের বড় সীমাবদ্ধতা।

একই সূত্রে বলা যায়, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আরেকটি ঘটনা ঘটবে এবং সেটা সম্বাদে গিয়ে শেষ হবে। এটা ছাত্র-সমন্বয়কদের জানা আছে বলেই সেটা ঠেকানোর জন্য তারা যাবতীয় চেষ্টা করছেন; কিন্তু দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বলছে- ঠেকানো সম্ভব নয়।

[লেখক : গণতন্ত্রায়ণ ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষক]

মহাকাশের ভূত ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি

নির্বাচনী হাওয়ার ভেতরে করুণ মৃত্যুর সংবাদ

দেশকে বধিবে যে গোকুলে বেড়েছে সে!

দক্ষিণপন্থার রাজনীতি: অগ্রগতি নাকি অবনমন?

সামাজিক সাম্য ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার পুনর্নির্ধারণ

ছবি

নির্বাচনের স্বপ্ন ও স্বপ্নের নির্বাচন

সরিষার চাষে সমৃদ্ধি ও ভোজ্যতেলের নিরাপত্তা

জমি কেনার আইনি অধিকার ও বাস্তবতা

‘ঐতিহাসিক’ নির্বাচনে জামায়াত

‘মাউশি’ বিভাজন : শিক্ষা প্রশাসন সংস্কার, না অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি?

নির্বাচনের ফুলের বাগানে আদিবাসী ফুল কোথায়!

ডিজিটাল থেকে এআই বাংলাদেশ: অন্তর্ভুক্তির নতুন চ্যালেঞ্জ ও বৈষম্যের ঝুঁকি

ক্যানসার সেবা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

বহুমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার

রহমান ভার্সেস রহমান

যেভাবে আছেন, সেভাবে থাকবেন!

ইরান সংকটের শেষ কোথায়?

বিশ্ব রাজনীতির অস্বস্তিকর অধ্যায়

প্লাস্টিকনির্ভর জীবনযাপন ও জনস্বাস্থ্য সংকট

চক্রে চক্রে আন্ধাচক্র

‘বাংলাদেশপন্থী’ এক অস্পষ্ট ধারণা: রাষ্ট্র না মানুষ আগে

গুরু রবিদাস: সমতার বার্তা ও মানবতাবাদী শিক্ষার প্রতিধ্বনি

অপরাধ দমন না অধিকার সুরক্ষা?

ভোটের মাস, ভাষার মাস

ব্যর্থতা নৈতিক নয় কাঠামোগত: দুর্নীতি ও বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতা

জমি ভুলে খাস হয়ে গেলে সহজে ফেরত আনবেন কীভাবে?

আমরা কি জালিয়াত জাতি?

মন্ত্রীদের জন্য বিলাসী ফ্ল্যাট

ধর্মান্ধ আর প্রতিযোগিতা: দুই সাম্প্রদায়িকের খেলা

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী: সমাজের নতুন ব্যাধি

ছবি

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্নভঙ্গের বেদনা

বাড়ি ভাড়া নির্দেশিকা: ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সুরক্ষা নাকি দুর্ভোগের নতুন দরজা

ক্ষমতা যখন নিজেকেই তোষামোদ করে

‘খাল কেটে কুমির আনা...’

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

অধিকারহীনতার বৃত্তে আদিবাসী জীবন

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

বাদ, প্রতিবাদ ও সম্বাদ

মোশাররফ হোসেন মুসা

সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪

বাদ, প্রতিবাদ ও সম্বাদ; যাকে ইংরেজিতে বলে থেসিস, এন্টিথেসিস ও সিনথেসিস। প্রতিটি বস্তুতে অভ্যন্ত রীন দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে এবং তিনটি নিয়মের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে থাকে। মানুষের জীবন প্রণালি নিয়ে যে বিজ্ঞান -তাকে সমাজ বিজ্ঞান বলে। কোনো কোনো মনীষী এটাকে বিজ্ঞান বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন মানুষের জীবনও তিনটি নিয়ম মেনে পরিবর্তিত হয়; তাই এটাও বিজ্ঞান। তবে সম্বাদ তথা সেনথিসিসে আপাতত মীমাংসা হয় (এজন্যই কার্ল মার্কসের বস্তুবাদ, ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ ও শ্রেণী সংগ্রাম তত্ত্বকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায় না)। উদাহরণস্বরূপ- মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ সরকার, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের ব্যর্থতার কারণে ১৫ আগস্ট মর্মান্তি ক হত্যাকা-। ১৫ আগস্টের ঘটনার প্রতিবাদে ৩ নভেম্বর সেনাবিদ্রোহ হয়। ৭ নভেম্বরে আরেকটি সেনাবিদ্রোহে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। আবার ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর কয়েকটি সেনা বিদ্রোহ। ৩০ মে চট্টগ্রামে আরেকটি সেনা বিদ্রোহে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন।

এরশাদ, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা সরকারের আমলের আন্দোলনগুলো ও তার ফলাফলের মধ্যে তিনটি কারণের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে। অন্যদিকে নেতির নেতিকরণের উদাহরণ রয়েছে। যেমন- বীজ থেকে গাছ হয়, গাছ থেকে বীজ হয়- এভাবে সৃষ্টির পৌনঃপুনিকতা রয়েছে। একটি ঘটনা আরেকটি নতুন ঘটনার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে। কোনো ঘটনাই আগের ঘটনা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আদি যুগ থেকে দাস যুগ, দাস যুগ থেকে সামন্ত যুগ, শেষে সামন্ত যুগ থেকে আমরা বর্তমানে পুঁজিবাদী যুগে বসবাস করছি।

পুঁজিবাদও এক সময় পরিবর্তিত হয়ে আরেকটি যুগ নিয়ে আসবে। বর্তমানই শেষ- এটা একটি ভ্রান্ত ধারণা। মানুষ যেহেতু বুদ্ধিজীবী প্রাণী তথা রাজনৈতিক জীব, সে কারণে তারা চেষ্টা করলে পরিবর্তনগুলো পৃথিবীর কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অতীব দুঃখের বিষয় রাজনীতিবিদরা সেদিকে মনোনিবেশ দেন না। উদাহরণস্বরূপ- ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পরিবার, শেখ মনির পরিবার, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারে মোট ২৬ জন খুন হন। এ তিন পরিবারের মধ্য থেকে ১৭ জন এমপি হয়েছিলেন এবং নিকটতম আত্মীয়ের মধ্য থেকে শতাধিক ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাদের পরিবারের কেউ কি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছেন?

সামরিক বাহিনীর অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। তারাও কি শিক্ষা নিয়েছেন? বস্তুজগত গতিশীল। এটা তারা স্বীকার করেন না। তারা পুরাতন ঘটনাতে আবর্তিত হতে থাকেন। হয়ত এটাই মনুষ্য জগতের বড় সীমাবদ্ধতা।

একই সূত্রে বলা যায়, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আরেকটি ঘটনা ঘটবে এবং সেটা সম্বাদে গিয়ে শেষ হবে। এটা ছাত্র-সমন্বয়কদের জানা আছে বলেই সেটা ঠেকানোর জন্য তারা যাবতীয় চেষ্টা করছেন; কিন্তু দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বলছে- ঠেকানো সম্ভব নয়।

[লেখক : গণতন্ত্রায়ণ ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষক]

back to top